ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষ হয়েছে ৫ এপ্রিল। প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়া কলাবাগান ক্রীড়া চক্র রেলিগেশনে পড়ায় লিগ শেষ করেছে আরও আগে। পরে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ অর্থ বুঝে পাননি ক্লাবটির অধিকাংশ খেলোয়াড়। এমনকি চার ক্রিকেটার পাননি একটি টাকাও। যার মধ্যে আছেন লিগে সর্বোচ্চ পাঁচ সেঞ্চুরি হাঁকানো মোহাম্মদ আশরাফুলও।
খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে গত মৌসুম থেকে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারের লিগ শুরুর আগে তিন কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার নিয়মও বেঁধে দেয় আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। তাতে লিগ শুরুর আগে ৫০ ভাগ, চলাকালীন সময়ে ২৫ ভাগ করে এবং লিগ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ টাকা পরিশোধ করার কথা।
কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা করছে না কলাবাগান কর্তৃপক্ষ। যে কারণে রোববার অভিযোগ জানাতে বিসিবি কার্যালয়ে এসেছিলেন ক্লাবটির অধিনায়ক মুক্তার আলী, তাসামুল হক, নাবিল সামাদ, জসিমউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তারা বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দেখা করে বের হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাসামুল বললেন, ‘আমরা আগেই বোর্ডকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। বোর্ড অভিযোগ পাওয়ার পর ক্লাবের কাছে চিঠি পাঠায়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নাকি ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছে। দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। কবে নাগাদ এর সুরাহা হবে সেটি বলেননি সিইও। আমরা চেয়েছি যাতে দ্রুত সমাধান হয়। সামনে ঈদ, আর আমাদের রুটি-রুজির অংশ তো প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিক।’
প্রিমিয়ার লিগ থেকে কলাবাগানের অবনমন ঘটায় ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পারিশ্রমিকের একটা অংশ কেটে নতুন করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পারফরম্যান্সের কারণে পারিশ্রমিক কমে যাবে সেটি কোনোভাবেই মানতে রাজী নন ক্রিকেটাররা। সবার প্রতিনিধি হয়ে তাসামুল এ ব্যাপারে বললেন, ‘দলের পারফরম্যান্স খারাপ হলে টাকা কর্তন করবে এমন নিয়ম কোথাও নেই। আমরা বোর্ডকে সেটা বলেছি। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়।’
প্লেয়ার্স ড্রাফটে ‘এ’ গ্রেডে থাকা আশরাফুলের পাওনা ১৮ লাখ টাকা। শুরুর কিস্তিতে মোট টাকার ৫০ শতাংশ ৯ লাখ টাকার চেক জমা হয়েছিল বিসিবিতে এবং সেটাতে সইও করেছিলেন আশরাফুল। প্রিমিয়ার লিগের প্রাপ্ত অর্থ একত্রিত করে সেটি একটি বিশেষ কাজে লাগাবেন বলে টাকাটা তখন তুলে নেননি। পরে যখন তুলতে যান, জানতে পারেন মোট পারিশ্রমিক কমে এসেছে। পরিবর্তিত পারিশ্রমিক পাবেন ১৫ লাখ টাকা। তিন লাখ টাকা কেটে রাখা হবে। ঢাকা লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির কীর্তির পরও কেনো তার টাকা কর্তন করা হবে সে হিসাব মেলাতে পারছেন না একসময় বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়া এ ক্রিকেটার।
আশরাফুলের জন্য আরও হতাশার ব্যাপার, কমে যাওয়া অঙ্কের টাকাটাও হাতে পাননি এখনও। আজ-কাল করে তাকে ঘোরাচ্ছেন ক্লাবটির কর্মকর্তারা। সোমবারের মধ্যে তার টাকা পরিশোধের কথাদিয়ে আরেকটি তারিখ অবশ্য দিয়েছেন তারা। উচ্চকণ্ঠ হওয়ার আগে সেটার অপেক্ষায় আছেন আশরাফুল।
অন্যদিকে ক্রিকেটারদের অভিযোগ নিয়ে ক্লাবটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি।







