দেশে যুবসমাজের মধ্যে ৮৬ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ৭২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তাদের মধ্যে মাত্র ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সম্পর্কিত উপকরণ খোঁজ করেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পরে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে যুবাদের ধারণাসংক্রান্ত একটি বেসলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই জরিপ তথ্য সঙ্গত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতির অন্যতম চালিকা শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোন পথে অগ্রসর হচ্ছে, তা বোঝা যায় এ ধরণের তথ্যে।
সাম্প্রতিক এই করোনাকালে সারাবিশ্বের মতো দেশেও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জনজীবনের বাইরে থেকে থেকে যুবসমাজের এই অভ্যাস চোখে পড়ার মতো।
ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী যুবাদের ৬৫% কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ফেসবুককে সবচেয়ে কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে শুধুমাত্র সময় কাটানোর বাইরেও যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের মিলনমেলা হতে পারে, তা উপলব্ধি করা যাচ্ছে। শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড যারা পরিচালনা করেন, তারা সামাজিক মাধ্যমসহ প্রযুক্তিকে একটি বড় টুলস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। যাতে যুবসমাজ সহজেই যুক্ত হতে পারে ওইসব উদ্যোগে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।
দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগোষ্ঠী তথা যুবসমাজকে জনশক্তিতে পরিণত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকল্প নেই। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।








