‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ- ১৯৭৩ লঙ্ঘন করে’ নতুন উপাচার্য নিয়োগ এবং তাদের ভাষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ‘দ্বৈতাচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি হলের প্রভোস্ট এবং প্রক্টর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তা গ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠ পরিবেশের স্বার্থে তাদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা লিখেছিলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ এর লংঘন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর মিথ্যাচার ও দ্বৈতাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।
পদত্যাগপত্র পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা গ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি বলেন: আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখতে চাই। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্রছাত্রীরা যেন সুষ্ঠুভাবে নিজেদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারে সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে পদত্যাগ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্য হিসেবে সাময়িক নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপরই প্রক্টর এবং প্রভোস্টরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে পদত্যাগপত্র নিয়ে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের কাছে যান বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
সিনেট সদস্যদের বিবৃতি
ওদিকে, নতুন উপাচার্য নিয়োগে বিস্ময় প্রকাশ করে ৩৩ জন সিনেট সদস্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের ওপর আঘাত এবং সিনেটকে অকার্যকর করার নানামুখী ষড়যন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে।
বিষয়টিকে বিব্রতকর উল্লেখ করে তারা বিবৃতিতে বলেন: উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেট কর্তৃক তিন সদস্যের প্যানেল বিষয়ে একটি রিট আবেদন আদালতে বিচারাধীন এবং এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্বপদে বহাল থাকবেন বলে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে।
‘এমতাবস্থায় অন্য একজনকে (তিন সদস্যের প্যানেলের বাইরে) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া সরকার, উচ্চ আদালত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিব্রতকর।’
নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দুইদিনের মাথায় বুধবার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।








