তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সকালে তাকে ফরিদপুর আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী অনিমেষ রায় ও নারায়ণ চন্দ্র সাহা।
সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ফরিদপুরের ১নং আমলী আদালতে হাজির করা হয় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে। আবেদন করা হয় ১০ দিনের রিমান্ডের। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হামিদুর রহমান তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
রিমান্ডে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপসৃষ্টি না করে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রবীর সিকদারের স্ত্রী অনিকা সিকদার তার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে রিমান্ডের পরিবর্তে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার প্রেসার বেড়ে গেছে, সে ওই নকল পা টা পরতে পারছেন না, ওখানে ঘা হয়ে গেছে। তাই আমি মাননীয় আদালতের কাছে বলতে চেয়েছিলাম তাকে যেন জেলগেটেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বলতে পারিনি, আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
নিজের প্রাণহানির আশংকার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ তিনজনের নাম দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে রোববার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফরিদপুরে। ওই রাতেই ফরিদপুরের এপিপি স্বপন পাল তথ্য প্রযুক্তি আইনে প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রবীর সিকদারের দেওয়া পোস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন। সোমবার প্রবীরকে ফরিদপুর ১ নং আমলি আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।
ম্যাজিস্ট্রেট তখন শুনানি না করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে সাংবাদিক প্রবীরকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে প্রবীর সিকদারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু বলেন, যেহেতু এজাহারে কোনো অজ্ঞাত আসামী নেই, এবং তার লেখা স্ট্যাটাসটা পুরোটাই এজাহারে তুলে দেওয়া হয়েছে তাই এমন পরিপূর্ণ এজাহারে রিমান্ডের কোনো আবশ্যকতাই নেই। আদালত সতর্কতার সঙ্গে এই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করার কথা বলেছেন।
রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেরে বাংলা নগর থানার এসআই জলিলের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। তখন তিনি তার নিজ দৈনিক বাংলা ৭১ ও অনলাইন পত্রিকা উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এর অফিসে কাজ করছিলেন। এরপর তাকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে তাকে নিয়ে ফরিদপুর রওয়ানা হয় পুলিশ।
২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি। সেসময় একটি পা হারান প্রবীর সিকদার। এরপর দেশে বিদেশে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দৈনিক সমকালে যোগ দেন প্রবীর সিকদার। এরপর তিনি কালের কন্ঠে যোগ দেন।
বর্তমানে তিনি একটি দৈনিক ও একটি অনলাইন পত্রিকা চালান।জনকণ্ঠে থাকাকালীন তিনি ‘তুই রাজাকার’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেই প্রতিবেদেন তিনি বিশেষ কিছু ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে লেখার কারণে তার উপর হামলা হয়।






