মাজহারুল হক মান্না/এস এম আশিকুজ্জামান: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে কোন সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম।
ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করতে পারেন বলে কিছু গণমাধ্যমে যে সব খবর প্রকাশ হয়েছে, সে প্রসঙ্গে দৃষ্টিআকর্ষন করলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে কোন সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। কারন সংবিধানে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলা আছে। রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, আপিল বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসে বিচারকার্য করবেন না বলে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া বিবৃতিতে আগেই জানা গেছে। এরপরও যদি উনি দায়িত্ব নিতে চান তবে তা অবমাননাকর বলেই মনে করি।
সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কি শপথ পড়াতে পারবেন, এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অবশ্যই পারবেন এক্ষেত্রে আইনগত কোন সমস্যা নেই। কারন, বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। একজনের জন্য তো আর সব কাজ বন্ধ থাকতে পারে না।
এর আগে গত সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ সুদূর পরাহত। যে কথা গত ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি।
এদিকে রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।এসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন বলে জানা যায়।
গত ১৩ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তবে তার সরকারি বাসভবন থেকে বেরিয়ে বিমানবন্দরের পথে গাড়িতে ওঠার আগে বাইরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে যান।
ওই বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। চাপে নয়, ছুটি কাটাতে স্বেচ্ছায় বিদেশে যাচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতির এমন বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ১১ টি গুরুতর অভিযোগের কথা নজিরবিহীন এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে গত ২ অক্টোবর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাস ছুটির কথা উল্লেখ করে ১৩ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
প্রধান বিচারপতির এই ছুটিকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবি, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রায়ের কারণে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেয়া হয়।








