প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের দালিলিক তথ্যাদি রাষ্ট্রপতি নিজে আপিল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার পর তিনি প্রধান বিচারপতি থাকতে পারেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে আইন বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: প্রধান বিচারপতি যদি অসদাচরণ করেন কিংবা মানসিকভাবে অসু্স্থ বা শারীরিকভাবে অসমর্থ হন, অথবা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাকে অপসারণ করা যেতে পারে।
‘তবে তদন্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কার্যক্রম চলতে দিতে হবে।’

তিনি বলেন: প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করবে কে? সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়ার পর সংসদ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে এটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দুজনে বলছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আপনা আপনি বহাল হয়ে যায়নি। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি বলছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রয়েছে। তাহলে তদন্তের দায়িত্ব কে নিবে?
‘ফলে এক ধরণের সাংবিধানিক শূন্যতা বিরাজ করছে। তাহলে প্রধান বিচারপতিকে এমন অবস্থায় অপসারণের দায়িত্ব কে নেবে?’ বলে তিনি নিজেও প্রশ্নে রাখেন।
হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, প্রধান বিচারপতি কিছুদিন আগে ছুটি থেকে ফিরে হঠাৎ করে আবার একমাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে আবার বিবৃতি দিয়ে গেলেন। এই সবকিছু কেমন যেন একটা ধোঁয়াশা মধ্যে হচ্ছে। গোপনে গোপনে ঘটছে। সবকিছু ঘটার পর আমরা জানতে পারছি।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি আপিল বিভাগের এগিয়ে আসার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন: সুশাসন এবং নাগরিক অধিকারের খাতিরে রাষ্ট্রের অঙ্গগুলোর (আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ) মধ্যে মাঝেমধ্যে সংকট আসতেই পারে। তবে দেশের আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হতে পারে।
‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে আপিল বিভাগ।’
শনিবার সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়: গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। চারজন বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি।
তার মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।








