প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতের রান্না করা খাবার যে খেয়েছে তার মুখে সেই খাবার অমৃত লাগে। সেই জাদুময়ী হাতে তৈরি করা পায়েস পাঁচ বছর আগে খেয়েছিলেন বর্তমান ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। অবশ্য তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন।
শুধু পায়েস নয় প্রধানমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে পাঁচ রকমের মাছের পদ খাইয়েছিলেন। পাঁচ পদে ছিলো রুই মাছের কালিয়া, তেল কই, চিতলের পেটি, সরষে দিয়ে চুনো মাছের ঝাল আর গলদা চিংড়ির মালাইকারি। সেই আথিতিয়তা ভুলনেনি প্রণব মুখার্জি। মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ের সঙ্গে প্রণববাবুর সম্পর্ক মধুর ও আন্তরিক।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে নড়াইলে শ্বশুরবাড়ির গ্রামে গিয়েছিলেন প্রণববাবু। সে বারেও শেখ হাসিনা নিজের বাড়িতে ডেকে সামনে বসে খাইয়েছিলেন প্রণববাবুকে। ঠাট্টা করে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আপনি তো বাংলাদেশের জামাই’। জামাইষষ্ঠীর তত্ত্বও তো তা হলে পাঠাতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে প্রণববাবুর সরকারি বাংলোতে থাকলেও, এই প্রথম রাষ্ট্রপতি ভবনে আতিথ্য গ্রহণ করবেন। আর সেকারণে রাষ্ট্রপতির ভবনে চলছে তুমুল ব্যস্ততা। ৩২ জন প্রধান রাঁধুনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আগেই জেনে নিয়েছেন শেখ হাসিনার পছন্দ-অপছন্দ।
রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য বাঙালি রসনার ভেটকির পাতুরি, চিংড়ির মালাইকারি এবং চিতল পেটির মুইঠ্যার পদ রাখা হয়েছে। এছাড়া রাখা হবে রাজভোগ। এই রাজভোগের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সারির রাঁধুনিদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন ‘ফ্যামিলি রাঁধুনী’।
তবে রাঁধুনিদের একটিই আফসোস থেকেই যাচ্ছে। তারা শেখ হাসিনাকে ইলিশ মাছের কোনো পদ খাওয়াতে পারছেন না। রাষ্ট্রপতির বাসভবনে তিন দিনে আথিতেয়তায় রকমারি মাছের পাশাপাশি মুর্গ দরবারি, গোস্ত ইয়াখনি, রাইজিনা কোফতা, আলু বুখারার মতো উত্তর ভারতের বিশেষ পদ রাখা হয়েছে।










