প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা চাইবেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাই করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
দুদক বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে আপিল করছে- এই বিষয়টি রুহুল কবির রিজভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বলেন, দুদক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মানস সন্তান। তাই প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন, দুদক তাই করবে। তবে জনগণ ও নৈতিক আদালতে খালেদা জিয়া নির্দোষ।
বিদেশিদের কাছে দেন-দরবার করে লাভ হবে না- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে গোপন আঁতাতের জন্য আপনারাই সুইজারল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর দৌঁড়ঝাপ করছেন। আমি তার (ওবায়দুল কাদের) কাছে জানতে চাই- পৃথিবীর কোন দেশে সংসদ ভেঙ্গে না দিয়ে নির্বাচন হয়? এই নজির কি পৃথিবীর কোথাও আছে? আপনারা এবং আপনাদের দোসর এরশাদই জাতীয় সংসদ বহাল রাখার কথা বলছেন। এরশাদ বলবেন এজন্য যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হাত খরচা পান। আর আপনি বলছেন চাকরি রক্ষার্থে।
খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে এখন এক গভীর মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে নির্বাচনী ঢেউ তোলার অপচেষ্টা চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট নির্বাচনী ঢেউয়ে বিএনপি ও জনগণ গা ভাসাবে না। অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত করে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।
‘আর সেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। আর তা না হলে আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই অবৈধ সরকারের ভয়াবহ পতন হবে’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, বারবার ঘুঘু ধান খেয়ে যেতে পারবে না। জালভোট, রাতের গভীরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কলঙ্কিত নির্বাচন আর এদেশে অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। জনরোষ এবার চরম প্রতিশোধের শক্তিতে সরকারের যেকোন নীল নকশাকে প্রতিহত করবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি না দিলে চলমান আন্দোলন আরো তীব্র বেগে ধাবিত হবে বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রিজভী।







