বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে সহিংসতার বিপরীতে এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের সংলাপের পর আগামী নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
সংলাপে অংশগ্রহণ করা নেতারা যখন এই সংলাপ ফলপ্রসু হচ্ছে বা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তখন সেটা সবাইকে আরও আশাবাদী করে তোলে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আবারও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসতে চাওয়াকে আমরা ইতিবাচক বলেই মনে করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ সফল হওয়ার বিষয়ে আজ দেশবাসীর কাছে যৌক্তিক প্রশ্ন রেখেছেন। জেল হত্যা দিবসের স্মরণ সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: ‘অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য অপমান সয়েও দেশের মানুষের কথা ভেবে সংলাপে বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি, সংবিধান মেনে যতোটুকু সম্ভব তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তারা যখন সংলাপে বসছে তখনই আবার আন্দোলনেরও ডাক দিচ্ছে। এটা কিভাবে দেখবো? সেটা দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।’
শেখ হাসিনা বলেন: ‘ঐক্যফ্রন্ট থেকে সংলাপের জন্য চিঠি দেওয়া হলো, আমি স্বাগত জানালাম। ময়মনসিংহে মিটিং করে, তারপর এসেও আমি আলোচনা করেছি। ঐক্যফ্রন্ট-যুক্তফ্রন্ট দুইটা গ্রুপের সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়ে গেছে। এরপর আরো সকলের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। তারা আলাপ করতে চেয়েছে, সংলাপ করতে চেয়েছে; আমরা করেছি। তারা যে দাবি করেছে, আমাদের পক্ষে সংবিধান মেনে যতটুকু সম্ভব আমরা মেনে নেওয়ার কথা বলেছি। এই সংলাপ যখন চলছে, তারা আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। এটাকে দেশ ও জাতি কিভাবে নেবে আমি জানি না।’
আমরা মনে করি, সংলাপে বসে কোনো পক্ষ যদি অনড় অবস্থানে থাকে তাহলে সংলাপ ফলপ্রসু হবে না। সুতরাং সব পক্ষকেই ফলপ্রসু সংলাপের সদিচ্ছা নিয়ে বসতে হবে। সংলাপে স্বাভাবিকভাবে সবার সব দাবি মেনে নেয়া যেমন সম্ভব হবে না, ঠিক তেমনই কোনো দাবি মানা হলে আবার আন্দোলনের হুমকিও যৌক্তিক হতে পারে না। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকেও বিরোধীদের সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার মানসিকতা দেখানো হবে বলে আমরা আশা করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন ‘অপমান’ সহ্য করেও দেশের স্বার্থে সংলাপে বসেছেন, একইভাবে দেশের স্বার্থে সংলাপ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী অপমান সয়েও যদি সংলাপে বসতে পারেন, তাহলে অন্যরা কেন সংলাপে ছাড় দিতে পারবেন না?







