প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ম্যাকিয়াভেলী বলেছেন- শাসক (প্রিন্স) এর বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে ‘ধর্ম, ধাপ্পা ও বলপ্রয়োগ’। আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই তিনটি বৈশিষ্ট্য খুব যোগ্যতার সাথেই আয়ত্ত্বে নিয়েছেন।
‘‘ধার্মিক না হয়েও দেশ শাসনে ধর্মের ব্যবহার করা, ধাপ্পাবাজি দিয়ে মানুষের মন জয় করতে বিভ্রান্ত করা, আর তা না হলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের বশ্যতা আদায় করা- ম্যাকিয়াভেলীর এই চাতুর্যগুলো প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি ও দেশ শাসনের নীতি’’, বলেন রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন: ‘প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের এক জনসভায় বলেছেন- নুহ নবীর সময় এই নৌকা সবাইকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল। এটা সকলেই জানে, নির্বাচনের সময় আপনি ধার্মিক হয়ে যান। হেফাজতের রক্তাক্ত ঘটনার কথা মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। সরকারি ফরমান জারি করে জুম্মার নামাজে মসজিদে মসজিদে খুৎবা পরিবর্তন করা হয়েছে। দাড়ি-টুপি দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে মসজিদে মসজিদে ঢুকে নামাজরত বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা মানুষ জানে।’
তিনি বলেন: ‘মসজিদের ইমাম সাহেবদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের চেতনায় মোনাজাত করতে। আওয়ামী লীগ ছাড়া বিরোধীদলীয় কেউ যদি মারা যায় বা মৃত কারো নামে দোয়া চাওয়া হয়, তাহলে ইমাম সাহেবদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ সেই প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় কাহিনী বলে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।’
রিজভী বলেন: ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করে রেখেছেন তেমনই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যাচার করছেন। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। গতকালও চাঁদপুরে সরকারি টাকা ব্যয়ে জনসভা করে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন যা আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তিনি বলেন: ‘গত দুদিন আগে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দুটি নির্বাচনই দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের যে প্রান্তেই নৌকার পক্ষে ভোট চান না কেন তা ঘোষিত তফসিলের মধ্যে পড়ে এবং সেটা নির্বাচন আচরণ বিধিমালার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।’
এসময় রিজভী বলেন: ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি বলেছেন ভোট চাওয়া আপনার রাজনৈতিক অধিকার। তাহলে দলের সভানেত্রী হিসেবে ভোট না চেয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোট চাচ্ছেন কেন? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, সরকারি টাকা খরচ করে, সরকারি হেলিকপ্টার নিয়ে সরকারি সার্কিট হাউস ব্যবহার করে এবং গন্তব্যস্থলে সরকারী গাড়ি ব্যবহার করে, সরকারী সকল প্রটোকল নিয়ে ভোট চাওয়া কোন ধরনের রাজনৈতিক অধিকার? জনগণ তা জানতে চায়।’
তিনি বলেন: ‘এটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, কিন্তু ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আইন ভঙ্গের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ নিদ্রায় শায়িত রয়েছে। যেই প্রধানমন্ত্রী মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়, তার মুখে ভোট চাওয়া জনগণের সাথে ইয়ার্কি-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।








