রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জাতিসংঘে উপস্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ দফা প্রস্তাব এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তাছাড়া মিয়ানমারের মন্ত্রীও এ ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অাবুল হাসান মাহমুদ অালী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে অংশ নেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অাসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহারিয়ার অালম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল অাবুল হোসেনসহ অারও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত রাতে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। ২৫ অাগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর এখন পর্যন্ত এটিই মিয়ানমারের কোন মন্ত্রীর বাংলাদেশে প্রথম সফর।
তবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কোন কর্মসূচি মিয়ানমারের মন্ত্রীর এই সফরে নেই। এই বৈঠক শেষেই তার দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে নিজের ভাষণে বিশ্বনেতৃত্বের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রস্তাব গুলো ছিলো:
- অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারের জাতিগত নিধন নিঃশর্তে বন্ধ করতে হবে।
- দ্রুত মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের একটি বিশেষ অনুসন্ধানী দল প্রেরণ।
- জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিয়ানমারের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের তত্বাবধায়নে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিশেষ সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।
- রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গার নিরাপদে ঘর-বাড়িতে প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
- কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবনা দ্রুত এবং নিঃশর্ত বাস্তবায়ন করা।







