গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে তখন আশার বাণী শোনালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী ‘ওয়াটার সামিট-২০১৭’ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীতে নতুন খাল খনন, পুরনো খাল সংস্কার এবং জলাধার সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ এছাড়া ২০২১ সাল নাগাদ ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বিভাগীয় সদরগুলোতে নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এতে নিরাপদ পানি নিশ্চিতের পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পাওয়া যবে। এটা স্বীকার করতে হবে যে, কয়েক দশক আগেও রাজধানীর আশেপাশের খালগুলো প্রবহমান ছিল। কিন্তু নতুন করে কোন খাল খনন না করেই পুরনো খালগুলোকে দখল করে অপরিকল্পিত বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা এসব খালের গতিপথ স্তব্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া দখলমুক্ত যেসব অল্পকিছু খাল রয়েছে তাতেও ময়লা-আবর্জনা ফেলে মৃতপ্রায় করে রাখা হয়েছে। এর ফলে অল্প বৃষ্টিতেই এখন রাজধানীতে প্রচণ্ড জলাবদ্ধতার মাধ্যমে এর বিরুপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন খাল খনন এবং পুরনো খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা এসব বিষয়ে বিগত দিনে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এর ফলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এই সংকট নিরসনে পানি বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা নগরীর জলাবদ্ধতা দুর করতে সবার আগে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং পানি নিষ্কাশনের পথের সকল প্রতিবন্ধকতা দুর করার কথা বললেও নগরীর প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো মুক্ত হয়নি এবং কৃত্রিমভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং এসব দুর্ভোগ লাঘবে কর্তাব্যক্তিদের কাজের খবরের বদলে রাজধানীর আজিমপুরের একটি ড্রেন দশ বছর যাবৎ পরিস্কার না করা এবং যাত্রাবাড়ীর একটি রাস্তা পাঁচ বছর যাবৎ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হলেও তা নিরসনে সরকারি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এসব বিষয়গুলো মূলত: অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিসহ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রমাণ। অবশ্য এসব বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্বে উদাসীনতার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্যোগী হবে বলে আমরা আশা করি।








