শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি চাইছে সংবর্ধনাকে উপলক্ষ্য করে সংগঠনিক শক্তির সর্ব্বোচ্চ প্রয়োগ দেখাতে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট বিমানবন্দর হয়ে লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেবেন।
গণসংবর্ধনাকে সফল করতে যৌথ সভা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি গণসংবর্ধনায় অংশ নেবে ১৪ দলও।
এরই মধ্যে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পুরে রাস্তায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফুল হাতে অবস্থান করবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে নিজ নিজ অবস্থানে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী যে পথে বিমানবন্দর হয়ে গণভবন আসবেন, পুরো রাস্তা জুড়ে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনে এখনই মধ্যে শোভা পেতে শুরু করেছে। এসব ফেস্টুনের কিছু শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত, কোনোগুলোতে লেখা ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন’। আবার বেশকিছুতে লেখা রয়েছে ‘যুদ্ধ নয়, আমরা শান্তির পক্ষে’ শেখ হাসিনা। রয়েছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরে তোলা প্রধানমন্ত্রীর নানা আলোকচিত্রও।
দলীয় সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, গণসংবর্ধনাকে সামনে রেখে ৬ হাজারেরও বেশি ব্যানার ফেস্টুন শোভাবর্ধনে ব্যাবহার করেছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে আওয়ামী লীগ কি ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানতে চাইলে দলটির সংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, আগামী ৭ তারিখ (শেখ হাসিনার) সংবর্ধনায় দলীয় সংগঠনিক শক্তির প্রকাশ ঘটাবো।
এদিকে গণসংবর্ধনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের জানান, ওই দিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের নেত্রীকে আনতে বিমান বন্দর যাবে। এসময় বিমান বন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তায় দুই ধারে ফুল হাতে সকলে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেবে। আমরা চাই শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, জনসাধারণকেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে।
এর পাশাপাশি সমাজে বিশিষ্ট ও গুণীজনেরাও ফুল হাতে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধিত করবে বলে আমরা আশা করছি। তবে, সংবর্ধনার কারণে যেনো সাধারণ জনগণ ভোগান্তিতে না পড়ে সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখার রাখা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, নেত্রীর নির্দেশনাও তেমন।
টানা ২০ দিনের যুক্তরারাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে আগামীকাল দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সফরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বিশ্বের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
২ অক্টোবর তার ফেরার কথা থাকলেও, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গলব্লাডারে অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তাররা। যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা পিছিয়ে যায় আরও পাঁচ দিন।








