পাঁচ ওয়ানডের লড়াইয়ে ২-০তে পিছিয়ে থেকে সিরিজ জয়! অবিশ্বাস্য, বিরল এক কীর্তি। ইতিহাসে কেবল দুটি দলই গড়তে পেরেছে এই কীর্তি। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সাউথ আফ্রিকা, প্রোটিয়ারা আরেকবার করে দেখায় ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, আর ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ। দুই দলের ক্লাবে যোগ হল আরেকটি নাম। বুধবার ভারতের মাটিতে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে সেই দলে যোগ দিল অস্ট্রেলিয়া!
হায়দরাবাদে ৬ উইকেট ও নাগপুরের ৮ রানে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়াবে অস্ট্রেলিয়া, সেটিও আবার ভারতের মাটিতে! বর্তমান অজি দলটাকে নিয়ে এই বাজী ধরতে হয়তো দুবার ভাবতে হয়েছে কঠিন সমর্থকটিকেও।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এই দলটাই অসম্ভবকে করল সম্ভব। রাঁচিতে ৩২ রান, চণ্ডীগড়ে ৩ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর পর দিল্লীতে ৩৫ রানের জয়টা অজিদের দিল ক্ষত ভোলানোর উপলক্ষও। কিছুদিন আগেই তাদের মাটি থেকে সিরিজ জিতে এসেছিল কোহলির দল।
ফিরোজ শাহ কোটলায় অস্ট্রেলিয়া যে ম্যাচটা জিততে চলেছে সেটা অনুমান করা যাচ্ছিল ভারত ইনিংসের ১৩তম ওভারেই। সেই ওভারের তৃতীয় বল, মার্কাস স্টয়নিসের ওই বলে উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারেয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে যেন ম্যাচের ভাগ্যটাই লিখে গেলেন বিরাট কোহলি।
২৭২ রানের টার্গেটের কথা ভুলে গিয়ে অধিনায়কের পেছন পেছন ছুটলেন বাকি ব্যাটসম্যানরা। একদম শেষ বলে ২৩৭ রানে যখন থামল ভারতের ইনিংস, দূর থেকে টিভি ক্যামেরায় দেখা গেল বিরাট কোহলির থমথমে মুখ।
অথচ ম্যাচটা যে একদমই ভারতের হাতে ছিল না এমনও নয়। ১০৬ বলে উসমান খাজার ১০০ রানের কল্যাণে বড় রানের দিকে হাঁটা অজি ব্যাটসম্যানদের সময়মতই চেপে ধরেছিলেন ভারতের বোলাররা। ১০ চার ও ২ ছক্কায় দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে খাজা যখন সাজঘরের পথে, অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ তখন পর্যন্ত ১৭৫।
বাকী ব্যাটসম্যানরা শেষপর্যন্ত বড় কিছু করতে না পারায় সেই দলটাই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৭২। নিজ মাটিতে ভারতের এই দলটার জন্য ২৭৩ রান খুব কঠিন কোন লক্ষ্য নয়।
সেই কাজটা শুরুতেই কঠিন করে তুললেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ১৫ রানের মাথায় শেখর ধাওয়ানকে হারানোর ধাক্কাটা যখন ভোলাতে চলেছেন রোহিত শর্মা-কোহলি জুটি, তখনই অধিনায়ককে ফিরিয়ে দিলেন স্টয়নিস। কিছুক্ষণ বাদে ফিরলেন রিশভ পান্টও।
রোহিত ভরসা যোগালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রানে তাকে উইকেটরক্ষক ক্যারেয়ের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে কাঁটা দূর করেন লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। জাম্পাই ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার।
১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ভারতকে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল কেদার যাদব-ভুবনেশ্বর কুমার জুটি। সপ্তম উইকেট জুটিতে ৯১ রান উঠে আসে দুজনের কল্যাণে। তবে ৪৪ রান করা যাদবকে জাই রিচার্ডসন ও ৪৬ রানে ভুবনেশ্বরকে প্যাট কামিন্স ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।
সবদিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজটা ভুলেই যেতে চাইবে ভারত। টি-টুয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানো, সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে কোহলির দলকে।








