চট্টগ্রামের ডিএপি সার কারখানায় অ্যামোনিয়া ট্যাংক বিস্ফোরণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ অবস্থার। রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও গ্যাস আক্রান্তরা এখনো সুস্থ হননি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তারা জানিয়েছেন গ্যাস লিকের সময় উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা।
অ্যামোনিয়া গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়া বাবুর আলী নামের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, পোস্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ গ্যাসে আক্রান্ত হন তিনি। তার নাক-মুখ-চোখ তীব্র জ্বালা করতে থাকে। বিষাক্ত অ্যামোনিয়ায় তিনি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। কোনোমতে ছুটে গিয়ে পানিতে চোখমুখ ধুতে থাকেন। তারপরও জ্বালাপোড়া না কমলে ওই অবস্থায় দৌড়ে গেটের বাইরে চলে আসেন বাবুর। কিছুক্ষণ পর জ্বালাপোড়া একটু কমে আসে তার। তখন অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে কোথা থেকে কীভাবে গ্যাস লিক হলো, কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল তার কিছুই জানেন না বাবুর আলী। ঘটনার সময় কারখানায় অনেক মানুষ ছিল বলে জানান তিনি।
বাবুর আলীর মতোই ওই সময় কারখানায় থাকা আরেক কর্মী জানান, কারখানার ব্যারাকে শুয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নাকে কটু গন্ধ লাগে তার। গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে আসলে সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে উঠে ছুটে কাছে বিমানবন্দরে চলে যান তিনি। কিন্তু সেখানেও ছিল গ্যাসের তীব্র গন্ধ। এর কিছুক্ষণ পর অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
চট্টগ্রাম ডিএপি সার কারখানার ড্যাব প্ল্যান্টের অ্যামোনিয়া ট্যাংকে বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়। আক্রান্ত হয় কয়েক শতাধিক মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট পানি ছিটিয়ে রাত ৩ টার দিকে অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অ্যামোনিয়া গ্যাসের শিকার আরেক আনসারকর্মী জানান, দায়িত্ব অনুযায়ী অন্য কর্মীদের খাবার দেয়ার সময় হঠাৎই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনিসহ সেখানে থাকা সবাই। সোহরাফ নামের আরেকজনও একই কথা জানান। বলেন, হঠাৎ অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় সবার নাক-মুখ-চোখ, এমনকি সারা শরীর জ্বালা করছিল। অনেকেই দম বন্ধ হয়ে সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়ে যাচ্ছিল। অনেকে বাইরের দিকে ছুটছিল একটু বাতাসের আশায়।
সোহরাফ জানান, কারখানার একেবারে ভেতরের দিকে থাকা লোকজনের অনেকেই বেরুতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা আসার আগ পর্যন্ত। যারা বাইরের দিকে ছিল তারাই শুধু কোনোমতে বেরিয়ে চোখেমুখে পানি দিতে পেরেছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ডিএপি সার কারখানার ড্যাব প্ল্যান্টের ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার অ্যামোনিয়া ট্যাংকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এই গ্যাস দক্ষিণের বাতাসে উত্তর দিকে কাফকো, কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা নেভাল, ১৫নং, বিমান বন্দর, বিজয়নগর, স্টীল মিল বাজার, কাটগড়, আগ্রাবাদ সহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় শত শত নারী পুরুষ শিশু। শত শত মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে থাকে।
৪ ঘন্টা পর রাত ৩ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পতেঙ্গা এলাকায় জনগণকে আতংকিত না হয়ে পানি পান করা এবং নাকে মুখে পানি দেয়ার বিষয়ে মাইকিং করা হয়।








