বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী তরুণ লিটন ভূমিজকে দেশে ফিরিয়ে দিয়ে আসামের বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ উপাধি পেয়েছেন সুজন দেবরয়।
বুধবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের সুতারকান্দি সীমন্তে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে লিটন ভূমিজকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সাল থেকে নিখাঁজ ছিলেন ২৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী লিটন ভূমিজ।
কমপক্ষে পাঁচ বছর পর নিজের ছেলেকে জীবিত দেখে খুশিতে আত্মহারা মা রীনা ও ভাই মিলন। ভূমিজের মা বলছিলেন, ‘‘আমরা আশাহত ছিলাম যে ভূমিজ আর নেই। কিন্তু আমি একটি ভিডিওতে দেখতে পাই আমার ছেলে বেঁচে আছে। ভূমিজ ভিন্ন, অন্যদের মত নয়। এই কারণে আমি আরও চিন্তিত ছিলাম। ভারত ও বাংলাদেশের কিছু সহৃদয় মানুষ ও বিশেষ করে সুজন দেবরয় আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। তাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।’’
ভূমিজের পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভূমিজ তার মাকে চিনতে পারলেও তাকে মা বলে ডাকেননি এবং মাকে তার শাশুড়ি বলে ডাকছেন। এছাড়াও ভূমিজ তার ভাইকে বন্ধু বলছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এ ঘটনায় পরিবার সকল সদস্যরা হাসছেন।
সুজন দেবরয়ের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ উপাধি
২০১৭ সালে আসামের ভূখণ্ডে ভুলবশত ঢুকে পড়েন লিটন ভূমিজ। আসামের একটি চা বাগানে ২০১৯ সালে লিটন ভূমিজকে শনাক্ত করে সুজন দেবরয়। এর আগে ফেসবুকে তিনি ভূমিজের নিখোঁজের ব্যাপারে জানতে পারেন। ওইখানে ভূমিজের ছবিও ছিল। ভূমিজকে শনাক্তের পর সুজন ফেসবুক লাইভে গিয়ে তার পরিবার সম্পর্কে তথ্য চান।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভূমিজকে বাড়ি পাঠানোর আশায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষমও হন সুজন। বিষয়টি ফেসবুকে সকলের নজরে আসে। এমন একটি মহামূল্যবান কাজের পর সুজন দেবরয়কে তার বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার লোকজন ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ উপাধি দেন।
সুজন দেবরয় বলছিলেন, ‘ভূমিজ খুঁজে পাওয়ার পর আমি একটি ফেসবুক লাইভ করেছিলাম এবং বাংলাদেশ থেকে আমার বন্ধুদেরকে তার পরিবারকে খুঁজতে বলেছিলাম। বন্ধু-বান্ধবরা ভালোবেসে আমাকে সালমান খানের সিনেমা বজরঙ্গি ভাইজানের উপাধি দেন। ওই সিনেমায় সালমানও একটি বাচ্চা শিশুকে বর্ডার এলাকায় দুই দেশের নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে তারা পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছিলেন।’
‘‘আসলে করোনা পরিস্থিতির জন্য ভূমিজের পরিবারের কাছে যেতে দেরি হচ্ছিল, দুই দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া, হাইকমিশনের কাজ ইত্যাদি শেষ করে তাকে সঠিক পদ্ধতিতে দেশে ফেরানো হয়েছে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভূমিজকে দেশে ফেরার সবুজ সংকেত দেয়’’, বলছিলেন সুজন দেবরয়।








