অন্যদের অভিজ্ঞতায় প্রতারিত হওয়ার ভয়ে ও আস্থার সংকটের কারণে প্রবাসীরা পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করছেন না। বিনিয়োগ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হলে প্রবাসীরা দেশে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করবে বলে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর অনাবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্বজুড়ে ধারাবাহিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে সেন্টার ফর এনআরবি’র এমন আয়োজন।
দেশে বিনিয়োগের অন্যতম দুই খাত পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগে সম্ভাবনা তুলে ধরা হয় সম্মেলনে। তবে বিনিয়োগ করা অর্থের নিশ্চয়তা নিয়ে শংঙ্কার কথাই উচ্চারিত হয় বেশি।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান সেকিল চৌধুরী বলেন, এনআরবিদের যে অ্যাকাউন্টসগুলো আছে, সেখানে বিশ্বাস করে আপনারা টাকাগুলো রাখেন, আমানত হিসেবে রাখা টাকাগুলো যেন ব্যাংক ম্যানেজার খেয়াল রাখেন।
ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, অনেকে আবার টাকাও ফেতর পাচ্ছে না আবার জমির কোনো ফয়সালা হচ্ছে না। যিনি বাইরে বসে আছেন, যিনি টাকা দিচ্ছেন তার জন্য কি হবে। কিন্তু রিহ্যাবের ক্ষেত্রে কে নিবে এই অ্যাকশন? কেউ কিন্তু নেই।
প্রবাসী আলী মামুন সরকার বলেন, রাস্তাগুলো সিকিউর করে ইনভেস্টমেন্ট ক্যাপিটাল মার্কেটে যদি সুবিধা করে দেওয়া যায় তাহলে এনআরবিরা আবারো আগ্রহ বোধ করবে।
সম্মেলনে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, শেয়ার বাজারে আসতে না পারায় হাউজিং সেক্টরে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নীতিমালার অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে আমারা সরকারের সহযোগিতা চাই।
ঢাকা স্ট্রক এক্সচেঞ্জের সাবেক সহ সভাপতি বলেন, এনআরবিদের জন্য যারা অ্যাকাউন্ট খুলবে তাদের দেশের যে কোন ব্যাংকে ফিজিক্যালি উপস্থিত হতে হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, প্রবাসীরা যাতে সহজে ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন সেইজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগেও বিশেষ সুবিধার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রবাসীকে যদি সেবা না দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু এখন এমন এক ব্যবস্থা করেছে আপনাদের কোনো উপায় নেই। আমরা কাস্টমার ইন্টারেস্ট প্রটেকশন সেন্টার (সিআইবিসি) করেছি। গত বছর প্রায় তিন হাজারেরও বেশী আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম। শুধু প্রবাসীদের কাছ থেকে না সারা দেশ থেকেই। সেই অভিযোগ আমরা ৯৯.৯৯ ভাগ পর্যন্ত নিষ্পন্ন করেছি।
তবে আবাসন খাত ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং বদলাতে না পারলে দেশীয় বা প্রবাসী কোন বিনিয়োগই হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।






