ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শেষ হলো বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে বহুল আলোচিত কার্বণ নিঃসরণ কমাতে চুড়ান্ত খসড়া চুক্তি অনুমোদন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অর্থায়ন, কার্বণ নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে রক্ষার বিষয়ে নানা কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা ছাড়াও ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১শ’ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া চুক্তিটিতে।
গত ৩০ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয়েছিলো বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে। প্রায় ১৪০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। টানা ১৩ দিন সম্মেলন চলার পর তা শেষ হয়েছে। তবে এ সম্মেলনের অগ্রগতি নিয়ে সিভিল সোসাইটি এবং বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা ততটা খুশি নয়। তবে যতটা অগ্রগতি হয়েছে সেটা খুব বেশি হতাশার নয়। তবে এর চেয়ে আরো বেশি কিছু পাওয়ার ছিলো।
সম্মেলন চলাকালে নানান ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরও চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এই খসড়ায় অর্থায়ন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে রক্ষার মতো নানান বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইচ উল আলম বলেন, আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম, আশা করছি তার অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি। এড্যাপটেশনের ক্ষেত্রে অনুদান হবে লোন হবেনা এ বিষয়টি মোটামুটি কাছাকাছি চলে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর যে ১২০ বিলিয়ন টাকা জমা দেওয়ার কথা এ দাবিটি এখনো আছে। এটা নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই।
সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে আমরা বলেছিলাম যে, বিশ্বের গরম দেড় ডিগ্রী পর্যন্ত বাড়তে দেওয়া যাবে তার চেয়ে বেশী নয়। এই ক্ষেত্রে এবার যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশীরভাগ দেশ এই কথার সাথে একমত পোষণ করছে।
এই সম্মেলনের শুরু থেকে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে নানা ফোরামের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি করে আসছে। বাংলাদেশ মনে করে তাদের সেই দাবি অনেকটাই বাস্তবায়নের পথে।
ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক এবং প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম, প্যারিস নিয়ে অনেক আলোচনা, অনেক ফোরামে তা হয়েছে। একটি আকাশচুম্বি ধারণা ছিলো যে আমরা অনেক কিছু পাব। সে তুলনায় যতোটুকু হয়েছে তাতে আমরা নিরাশ বলবো না। আবার যে খুব বেশি কিছু পেয়েছি সেটাও বলবোনা। হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী কপ-২২ জন্য। মরোক্কো সম্মেলনের জন্য।
তিনি আরো বলেন, মরোক্কো সম্মেলনে আমাদের সেই আশার বিষয়টা আরো এগিয়ে যাবে। সে পর্যন্ত আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।
প্যারিসের এ সম্মেলনের পর আগামি বছর বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ঘোষণা এসেছে মরোক্কোতে হওয়ার।






