শুক্রবার ফ্রান্সে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শুধু ফরাসিরাই নিহত হননি, প্যারিসের রক্তগঙ্গায় ভেসেছেন অনেক বিদেশী নাগরিকও।
ঘটনার একদিন পর বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নিহত নাগরিকের পরিচয় প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত ১২টি দেশ তাদের নাগরিকের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
আলজেরিয়া: হামলায় দুই আলজেরিয়ান নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ‘এপিএস’ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সী একজন নারী ও ২৯ বছরের একজন পুরুষ রয়েছেন।
বেলজিয়াম: দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলায় তাদের তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে তাদের সবারই ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিলো।
ব্রিটেন: নিজ দেশের একজন নাগরিক নিহত হওয়ার খবার নিশ্চিত করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়। নিহত ব্রিটিশ নাগরিকের নাম নিকোলাস আলেকজান্ডার। এসেক্সের বাসিন্দা নিকোলাস ব্র্যান্ড ঈগলের কর্মী ছিলেন। হামলার সময় তিনি বাটাক্লান নাট্য সেন্টারে ছিলেন।
চিলি: নাগরিক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিও। একজন নারী-পুরুষসহ নিহত হয়েছেন মেক্সিকোতে নিয়োজিত দেশটির রাষ্ট্রদূত ও তার ভাগনি।
মরক্কো: আফ্রিকার দেশ মরক্কোর একজন নাগরিক হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটি ফরাসি দূতাবাস থেকে একজনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে আরো একজন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়।
পর্তুগাল: লিসবন থেকে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্যারিস হামলায় দুইজন পর্তুগীজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর একজন স্তাদি ডি ফ্রান্স স্টেডিয়ামের কাছে নিহত হন। তিনি প্যারিসেই থাকতেন এবং সেখানে গণ-পরিবহনের কাজ করতেন। আর অন্যজন নিহত হন বাটাক্লান হল রুমে। তিনি ১৯৮০ সালে ফ্রান্সেই জন্মগ্রহণ করে। তবে তার দুই দেশেরই নাগরিকত্ব রয়েছে।
রোমানিয়া: হামলায় দুইজন রোমানিয়ান নিহত হয়েছেন। দুইজনের খবর নিশ্চিত করেছেন বুখারেস্ট সরকার।
স্পেন: বাটাক্লান হলের কনসার্টে যোগ দিয়ে হামলায় নিহত হন স্প্যানিশ নাগরিক গঞ্জালেস গারিদো। তার নিহত হওয়ার খবর সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছে মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ।
সুইডেন: তথ্য যাচাই-বাছাই করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, হামলায় তাদের একজন নাগরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
তিউনিসিয়া: বন্ধুর জন্মদিন উৎযাপন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তিউনিসিয়ার দুই তরুণী। দুই বোনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়।
যুক্তরাষ্ট্র: প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নোয়েমি গঞ্জালেস। এখনও পর্যন্ত তিনিই একমাত্র নিহত মার্কিনি। ২৩ বছরের গঞ্জালেস গত সেপ্টেম্বরে প্যারিস যান। ফ্রান্সের ডিজাইন স্কুলের ছাত্রী ছিলেন।
গঞ্জালেস ছাড়াও আরো এক মার্কিন নাগরিক হামলায় আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক সুইজ নারী।
নিজ দেশের দুইজন নাগরিক আহতের খবর নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ।






