ভ্যাটিকান সিটির পোপ ফ্রান্সিসের মিয়ানমার সফরের শুরুতেই আলোচনায় এসেছে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। সোমবারে মিয়ানমারে এসে পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। মিয়ানমার সফরের শুরুতেই মিয়ানমারের মিলিটারি প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
ইয়াঙ্গুনের আর্চবিশপের বাসভবনে হওয়া পোপ ও মিয়ানমার জেনারেলের ১৫ মিনিটের সাক্ষাতের আর কোনো তথ্যই ভ্যাটিকান এখনো দিতে পারেননি। জেনারেল মিন অং হ্লায়িং এবং তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে এই সময়টুকু কাটান পোপ।
ভ্যাটিকানের মুখপাত্র গ্রেগ বুর্খে জানান, পোপ নিজের বক্তব্যে মিয়ানমারের এই ক্রান্তিকালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রবল দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
জেনারেল মিন অং হ্লায়িংয়ের অফিস থেকে এক ফেসবুক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি আস্থাযোগ্য শান্তি, একতা ও ন্যায়বিচার পেতে আগ্রহী। এরপরে জেনারেল আরো যোগ করেন, সেখানে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত নিধন বা বৈষম্যের চর্চা মিয়ানমারে ছিল না এবং সরকার সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীকে প্রার্থনা করার স্বাধীনতা দেয়।
বিগত কয়েক দশক থেকেই বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেনা, তাদের ধর্মচর্চা করতে পারেনা, শিক্ষক বা ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে পারে না। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও শিক্ষাও ঠিকমতো পায়না তারা।
রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তার দায়ভার জেনারেলের হাতেই ছিলো। যেখানে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বিগত কয়কমাসে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।
বুধবারে পোপ ও জেনারেলের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা থাকলেও কেন সেটা এভাবে এগিয়ে এলো তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।এর আগে মিয়ানমার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ নামে না ডাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে জেনারেলের সঙ্গে মিটিংয়ে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন কিনা সেই বিষয়ে কিছু বলেননি ভ্যাটিকানের মুখপাত্র।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা সেনু আরা আশা করেন, পোপের সফর তাদের জন্য কোনো শুভবার্তা বয়ে নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, তিনি হয়তো আমাদের সেই শান্তি পেতে সহযোগিতা করবে যেটা আমরা খুঁজছি। আর যদি এখানেই থাকতে হয় তাহলে আমাদের অবস্থার আরো উন্নতি হবে। আমাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটাও নিশ্চয়ই শান্তির হবে।
কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাবনাটা ভিন্ন। রোহিঙ্গারা বছরের পর বছর এখানে বসবাস করলেও তারা মনে করে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে এখানে বসবাস করছে।







