পুলিশকে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন নারী পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মত কঠোর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে পালন করছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে পিএসসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির (২০১৮-২০২০ সাল) অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বক্তব্যের শুরুতে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন: বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালে মাত্র ১৪ জন নারী নিয়ে পুলিশে নারীর পদযাত্রা সূচিত হয়। আজ পুলিশে নারীর সংখ্যা প্রায় ১১ সহস্রাধিক, যা মোট পুলিশ সদস্যের সাড়ে ৭ ভাগ।
ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন হচ্ছে। বাড়ছে সক্ষমতা। আমরা পুলিশকে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। ৭টি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটসহ পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নারী সহায়তা কেন্দ্র ও থানায় শিশু হেল্পডেস্ক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। থানাগুলোকে নারী ও শিশু বান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। নারী পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ১১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। শান্তি রক্ষা মিশনেও তারা অনন্য অবদান রাখছে।
আইজিপি বলেন, অনেক সময় আমরা শুনি যে, পুলিশের নারী সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের দ্বারা লাঞ্চনার শিকার হন। এক্ষেত্রে আপনারা উইমেন নেটওয়ার্কের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই সুবিধাটি শুধু নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য নয় বরং সাধারণ ভুক্তভোগীরাও অভিযোগ করতে পারবে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশে নারীরা আজ স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল উল্লেখ করে আইজিপি বলেন: বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ সংগঠনের কর্মকর্তাগণ আন্তর্জাতিক সংগঠনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিপিডব্লিউএন- এর নবগঠিত কমিটি সংগঠনটিকে আরো এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও বিপিডব্লিউএন-এর নবনির্বাচিত সভাপতি আমেনা বেগমের সভাপতিত্বে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিগণ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নারী পুলিশের কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগমকে সভাপতি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার ফরিদা ইয়াসমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৮-২০২০ সালের জন্য বিপিডব্লিউএন-এর ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।







