রাজপথে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ব্যবহৃত নতুন অস্ত্র ‘সাউন্ড স্টিমুলেটর’ এর মাধ্যমে শ্রবণ শক্তি নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকৎসকরা। তবে পুলিশ বলছে: সাউন্ড স্টিমুলেটর হচ্ছে শব্দ বর্ধনকারী, এর মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করাই উদ্দেশ্য।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আধাবেলা হরতাল ডেকেছিল সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চা। এ হরতালে আন্দোলনকারীদের দমাতে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর মাধ্যমে ‘সাউন্ড স্টিমুলেটর’ নামের এ অস্ত্র দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলো।
ইএনটি অ্যান্ড হেড নেক ক্যান্সার হসপিটাল অ্যান্ড ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক ডা. অধ্যাপক জাহেদুল আলম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: অল্প সময়ের মধ্যে হাই ফ্রিকোয়েন্সি সাউন্ড এমনিতেই কানের জন্য ক্ষতিকর। ১০০ শতাংশ ডেসিবলে যেকোন শব্দে শ্রুতিহীনতার সমস্যা হতে পারে। সাউন্ড স্টিমুলেটরের ডেসিবল আরো বেশি। এর মাধ্যমে শ্রুতি স্নায়ু পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী কোনো যন্ত্রই হাসপাতালের আশপাশে ব্যবহার করা উচিত না জানিয়ে তিনি বলেন: শাহবাগে দুটো হাসপাতাল রয়েছে, আমরা এমনিতেই হাসপাতালের রোগীদের স্বার্থে শব্দ দূষণ না করতে বলি। এসব ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তীতে আরও সচেতন হবে বলে আমরা আশা করি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: সাউন্ড স্টিমুলেটর হচ্ছে শব্দ বর্ধনকারী। এর মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করাই উদ্দেশ্য। উন্নত বিশ্বে আন্দোলনকারীরা যখন বিক্ষোভ করে তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এই শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে।
রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এহসানুল ফেরদৌস বলেন: যেকোন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এটি ব্যবহার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন: টিয়ার গ্যাস ছুড়লেও তো সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়। তাছাড়া যন্ত্রটি যেদিকে তাক করে দেওয়া হবে সেদিকেই শব্দ বেশি হবে। অন্যদিকে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।








