পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র।
এনডিটিভি জানায়, শনিবার ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউতে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা এসআর দারাপুরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। ৭৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরোধিতা করায় গ্রেপ্তার করা হয়।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা দারাপুরী।
দারাপুরীর বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। এক পর্যায়ে সেখানে যেতে দেয়া হলেও পথে পর পর দু’বার পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রিয়াঙ্কা বলেন, পথের মাঝেই গাড়ি আটকে সামনে যেতে বাধা দিলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে এগোনোর চেষ্টা করেন। ওই সময় একদল পুলিশ সদস্য তাকে ঘেরাও করে যেতে বাধা দেন, কিন্তু কেন যেতে দেয়া হচ্ছে না জিজ্ঞেস করলে কোনো কারণ বলেননি তারা।
ওই সময় সবাইকে সরিয়ে হেঁটে এগোনোর চেষ্টা করলে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য প্রিয়াঙ্কার হাত টেনে ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। এমনকি দায়িত্বরত ডিএসপি অর্চনা সিং তাকে ঘাড় ধাক্কা দেন এবং এরপর আরেক নারী পুলিশ সদস্য তাকে ধাক্কা দিলে এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান বলেও অভিযোগ করেন।
পুলিশের বাধা পেয়ে পরে দলের এক কর্মীর মোটরসাইকেলে চেপে গন্তব্যের পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা। ইন্দিরানগরে দারাপুরীর বাসার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আবারও পুলিশের গাড়ি মোটরসাইকেলের পথরোধ করলে সেখান থেকে নেমে হেঁটেই ওই কর্মকর্তার বাসায় যান তিনি।
তবে প্রিয়াঙ্কার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দু’টি পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে পুলিশ। অর্চনা সিং নিজ বিবৃতিতে বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বাধা দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। কেননা প্রিয়াঙ্কা তার যাত্রাপথের পূর্বনির্ধারিত রুট থেকে সরে অন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং ভিআইপিরা এই কাজটি করলে রাজপথে যানজটের সৃষ্টি হয়।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতেও একই যুক্তি দেখানো হয়েছে। এছাড়া প্রিয়াঙ্কা ঘাড় ধাক্কা দেয়া এবং মাটিতে ফেলে দেয়ার যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু প্রিয়াঙ্কা তার অভিযোগে অনড় থেকে পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, পুলিশ কোনো কারণ না দেখিয়ে রাস্তার মাঝখানে তার পথরোধ করেছিল, এমনকি তার গায়ে হাত তুলেছিল। এর মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ একটি কর্মসূচিতে ‘ভীতু’ মোদি সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।








