দিনকে দিন ক্রীড়াবিশ্বে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গন শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। আইপিএল, আইএসএলের মতো টুর্নামেন্ট সেই অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ। কিন্তু নারীরা চিরাচরিত প্রথার মতো অবহেলিত, বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। যার সবটাই ঘটছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ইশারায়। আইপিএল শেষ হওয়ার পর ‘দ্য অয়্যার’ পত্রিকায় প্রিয়ান্স নামের এক ক্রীড়া সাংবাদিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চাইছেন, ভারতীয় নারী ক্রীড়া সাংবাদিকরা পুরুষের ‘হাতের মোয়া’।
প্রিয়ান্স একটি ঘটনা সামনে এনে দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে অযোগ্যদের আইপিএলে কাজ দেয়া হয়। সেদিন ছিল ৪ মে। কেকেআর আর পুনের খেলা। একজন আম্পায়ার বল আনতে নির্ধারিত রুমে যান। সেখানে আপেলের একটি বাক্সে বল ছিল। যার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কালো গাউন পরা এক নারী। আম্পায়ার বল চাইলে তিনি দুইবার আপেল তুলে দেন! পরে সেই কর্মকর্তা নিজেই বল তুলে নিয়ে রুম ত্যাগ করেন।
যিনি বল আর আপেলের পার্থক্য বুঝতে পারেন না, তাকে আইপিএলের মতো আসরে কাজ দেয়া হয়েছে। প্রিয়ান্সের প্রশ্নটা এখানেই। তিনি বলছেন, এসব কারণে নারীদের বিষয়ে ভুল বার্তা যায় সাধারণ মানুষের কাছে। যারা খেলা বোঝেন, খেলা চর্চা করেন তাদের পাত্তা দেয়া হয় না।
আইপিএলের মতো আসরে লিঙ্গবৈষম্য কতটা প্রকট, সেটা তুল ধরতে ২০১৩ সালের একটা ঘটনা টেনে এনেছেন প্রিয়ান্স। সেবার অফিসিয়াল ব্রডকাস্টারের প্রধান মন্তব্য করেন, ‘ক্রিকেটজ্ঞানের ওপর ভিত্ত করে মেয়েদের নির্বাচন করা হয় না। নারী উপস্থাপিকা প্রতি বছর পরিবর্তন করা হয়। অল্প বয়সী এবং ঝরঝরে হিসেবে তাদের তুলে ধরার জন্য এমনটা করা হয়!’
ইএসপিএন ইন্ডিয়ার সিনিয়র এডিটর সারদা উগরা আইপিএলে এমন বৈষম্যের অন্যতম একজন সমালোচক। তিনি মনে করেন, ৮০’র দশকের চেয়ে এখন ক্রীড়া সাংবাদিকতা মেয়েদের জন্য বেশি ঝুঁকির হয়ে গেছে।
‘আমি মিড ডে দিয়ে কাজ শুরু করি। এটা ছিল সন্ধ্যার পত্রিকা। আমার কাজ ছিল সেইসব খবর সংগ্রহ করা, যেগুলো সকালের এডিশনে থাকতো না। এখন হলে আমি সত্যি অনেক বিপদে পড়তাম।’
আইপিএলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইপিএলে নারী ধারাভাষ্যকারদের পাত্তা দেয়া হয় না। এটা সব জায়গায়ই। মেলানিয়া জোন্স দশ বছর ধরে ধারাভাষ্য পেশায় আছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় ছেলেদের ম্যাচে তাকে ডাকা হয় না।’
‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আইসিসিকে এগিয়ে আসতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও কোনও নারী ধারাভাষ্যকারকে তারা রাখেনি। এসবের অবসান ঘটাতে হবে।’ বলছেন সারদা।








