২৭ রানে ৫ উইকেট হাওয়া। ঠিক যেন কিছুদিন আগের বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে যেভাবে নাকাল হয়েছিল মুমিনুল হকের দল, তারই পুনরাবৃত্তি। নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যাটে-বলে দারুণ খেলে প্রথম টেস্ট জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে ফের পুরনো চেহারায় ফিরে গেছে টিম টাইগার্স। ১২৬ রানে অলআউট হয়ে সফরকারীরা পড়েছে ফলো-অনে।
ভেন্যু বদলাতে খেলাও বদলে গেল বাংলাদেশের। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পারফরম্যান্সের কোনো ছাপই দেখা গেল না ক্রাইস্টচার্চে। ব্যাটিংয়ে নামতেই বিধ্বস্ত টপ ও মিডলঅর্ডার। ইয়াসির আলি রাব্বি ও নুরুল হাসান সোহানের প্রতিরোধে একশ পেরিয়েছে যদিও। ইয়াসির ৫৫ ও সোহান করেন ৪১ রান। বাকি কেউই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক।
ট্রেন্ট বোল্ট পাঁচটি, টিম সাউদি তিনটি ও কাইল জেমিসন নেন দুটি করে উইকেট। মঙ্গলবার তৃতীয় দিন সকালে আবার কিউই পেসত্রয়ীর সামনে পড়তে হবে ব্যাটারদের।
হ্যাগলি ওভালে সিরিজের শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচ খুঁজে নিয়েছে গতিপথ। ইনিংস হার এড়াতেই বাংলাদেশকে করতে হবে আরও ৩৯৫ রান।
নিউজিল্যান্ড রানের পাহাড় গড়বে অনুমেয়ই ছিল। আগেরদিন মাত্র এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা ৩৪৯ রান জমায়। আরও দেড় সেশনের মতো ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৫২১ তুলে স্বাগতিকরা ইনিংস ঘোষণা করে।
টম ল্যাথামের ২৫২ রানে সঙ্গে টম ব্লান্ডেলের ৬০ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে পাঁচশ টপকে দেয় নিউজিল্যান্ড। প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ঘণ্টাখানেক ব্যাটিং করে তোলে ৯৮ রান।
৯৯ রানে অপরাজিত থেকে সকাল শুরু করা ডেভন কনওয়ে সেঞ্চুরির পর টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। মেহেদী হাসান মিরাজের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে ফেরেন। ল্যাথামের সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ২১৫ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে যেটি নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে ল্যাথাম ফেরেন ২৫২ রানে। ৫৫২ মিনিট ধরে খেলা ৩৭৩ বলের ইনিংস, ৩৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। মুমিনুলের বলে ইয়াসির নেন ক্যাচ। প্রথম টেস্টে দামি দুটি উইকেট নিয়েছিলেন পার্টটাইম বাঁহাতি স্পিনার।
দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকা রস টেলরের উইকেট তুলে নেন ইবাদত। ক্রাইস্টচার্চ হয়ে রইল তার স্যালুটের সাক্ষী। মুহূর্তটি অন্য কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ব্যাট করতে নামা না লাগলে টেস্টে নিজের সর্বশেষ ইনিংসটি খেলে ফেললেন টেলর।
৩৯ বলে ৪ চারে ২৮ রান করা টেলর ঠিকঠাক ব্যাটে-বলে সংযোগ না করতে পারায় লেগসাইডে শরিফুলের হাতে ধরা পড়েন। ক্রিজে আসা ও আউট হওয়ার পর দর্শকদের দাঁড়িয়ে করতালির সম্মান পান। ইবাদতের শিকার হওয়ার পর টাইগাররা এসে হাত মিলিয়ে নেন। ক্রিজে আসার সময় মুমিনুলরা দিয়েছিলেন গার্ড অব অনার।
খানিক পরে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় হেনরি নিকোলসকে। ইবাদতের বলে উইকেটের পেছনে সোহানের গ্লাভসবন্দি হন। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় রিভিউ নিয়েছিলেন মুমিনুল, হয়েছেন সফল।
প্রথম সেশনের শেষ বলে শরিফুল উইকেট তোলেন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ড্যারিল মিচেল। তিন রান করা ব্যাটারকে আম্পায়ার মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তিনি রিভিউ নেন, শেষ রক্ষা হয়নি।








