পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড পুনঃনিবন্ধনের সময়সীমা
শেষ হচ্ছে আজ।
মোবাইল অপারেটরগুলোর সব কাস্টমার কেয়ার সেন্টার ও রিটেইলার
পয়েন্টে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম-রিম নিবন্ধন কার্যক্রম আজ রাত ১০টা
পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে সিম নিবন্ধন করা না হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা
এরপর অনিবন্ধিত সিম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারে থাকা আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে চলছে সিমের এই নিবন্ধন; নতুন সিম কিনতেও যেতে হচ্ছে একই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে।
গত ৯ মার্চ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এস এম এনামুল হক নামের এক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৪ই মার্চ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এরপর ১২ এপ্রিল সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম ‘যথাযথভাবে’ অনুসরণ করার নির্দেশনার পাশাপাশি গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরদেরও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
গতকাল শুক্রবার সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গ্রাহকদের। মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারে প্রবেশে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে হিমশিম খেতে হয় এসব কেন্দ্রের দায়িত্বরত সেবাদাতাদের।
ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন ছাড়া সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনঃনিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর মোবাইল গ্রাহকদের সিমের তথ্য যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এনআইডি শাখার পরিচালক (অপারেশন্স) সৈয়দ মুহাম্মদ মূসা বলেন, প্রতি সেকেন্ডে ছয় হাজার আঙুলের ছাপসহ তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে এনআইডির তথ্যভাণ্ডারে। অপারেটরদের যে কোনো সহায়তা দিতে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সময় বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে এক মাস সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র টেলিকম ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, গতকাল পর্যন্ত দেশে চালু সিমের অর্ধেকের কিছু বেশি নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়।
এছাড়া মোবাইল ব্যবহারকারী অধিকার সুরক্ষা ফোরাম নামে একটি সংগঠন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনের জন্য আরো দুই মাস সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর নিজের নামে একটি সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির পরীক্ষামূলক সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
সেসময় তিনি বলেন, মোবাইল সিম নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি গ্রহণে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। এ কারণে আমি গৌরববোধ করছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জন্য কিছু একটা করার স্বপ্ন ও বাসনা আমার রয়েছে। আমি কেবল মাত্র উপদেশ দেই, আপনারা সেটি বাস্তবায়ন করেন এতে কৃতিত্ব আপনাদেরই-বলেন জয়।
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন শেষ করব। এর মধ্যে যেগুলোর নিবন্ধন হবে না- সেগুলোর গ্রাহককে নিবন্ধনে বাধ্য করতে কয়েক ঘণ্টা করে সিম বন্ধ ও এসএমএস দিয়ে সতর্ক করা হবে।’
এরপরও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন না করলে ওইসব সিম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী।
সিম নিবন্ধনে কোথাও কোথাও গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তারানা হালিম আগে বলেছেন, সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে কোনো গ্রাহককে টাকা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট রিটেইলারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপারেটররা এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের ব্ল্যাকলিস্টেড করবে এবং তাদের রিটেইলারশিপ বাতিল করবে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ গ্রাহকের সিমকার্ড পুনঃনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ১৩ কোটি ৮ লাখ মোট গ্রাহকের বিবেচনায় এ হার ৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ গ্রাহক সিমকার্ড নিবন্ধন করতে এলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ না মেলা এবং অন্যান্য ত্রুটির কারণে নিবন্ধন হয়নি।








