বিশ্বে সাম্প্রতিক সময়ে অকল্পনীয় নৃশংসতার নজির দেখানো সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন আইএস’কে আক্রমণ এবং নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশের সবচেয়ে অভিজাত বিশেষ বাহিনীর দলকে সিরিয়ায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
সিরিয়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার সেনা দল পাঠিয়ে আইএস’কে সমূলে বিনাশ করতে পুতিনের সিদ্ধান্তের পর এই ধরনের পদক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
“তারা চরমভাবে আক্রমণাত্মক এবং সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বিমান হামলার পর তারা লক্ষকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে এবং আবারও বিমান আক্রমণের আহবান জানাবে। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গুপ্তভাবে মারাত্মক আঘাত হানবে এবং কার্যত তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।” সিরিয়ায় মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া চৌকষ ও ভয়ঙ্কর ‘স্পেটস্নাজ’ বিভাগের বিশেষ সামরিক বাহিনীর বৈশিষ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম মিররকে এমনটি জানিয়েছে একটি সামরিক সূত্র।
সামরিক সূত্রের মতে “ব্রিটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মতো তাদের জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা নেই। তাদের এখানে (সিরিয়ায়) আসার একটিই কারণ। যারাই বাশার আল আসাদের সরকারের জন্য হুমকির কারণ তাদের যেকোন মূল্যে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। এই কাজের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।”
সিরিয়ায় মোতায়েন স্পেটস্নাজ হলো রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অভিজাত অংশের মধ্যে সর্বোচ্চ অভিজাত বাহিনী যারা কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পদবী অর্জন করে। এর মাধ্যমে মিত্র সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে সাহায্য করতে এবং আইএস’কে ধ্বংস করতে রাশিয়ার কঠোর প্রতিজ্ঞার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এটা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ চেচনিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় থেকেই জিহাদিদের প্রতি রাশিয়ার অনেকেরই তীব্র ঘৃণার বোধ রয়েছে। সেসময় ইসলামি ধর্মান্ধরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করার সময় রাশিয়ার জনগণের উপর অনবরত নৃশংসতা চালিয়েছিলো।
বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ খুনিদের এই দলটিকে আইএস যোদ্ধাদের ক্ষমাহীনভাবে আক্রমণ করা এবং হত্যা করার কাজে নিয়োজিত করা হবে। রাশিয়ান বোমারু বিমানের হামলার লক্ষবস্তু সন্ত্রাসীদের আস্তানাকে নিশ্চিহ্ন করতেও এরা ভূমিকা রাখবে।
পুতিন সিরিয়ার ইসলামি জঙ্গি দল এবং আইএস এর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ থেকে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন জোট এবং সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করতে যুদ্ধরত বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার হামলা চালানো শুরু করার প্রেক্ষাপটে এই সপ্তাহেই অভিজাত প্যারাট্রুপারদের একটি ব্যাটালিয়ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে হাজির হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ক্ষমাহীনভাবে জিহাদিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ঝটিকা বিমান হামলায় এই পর্যন্ত একটি প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং সুইসাইড বেল্ট ফ্যাক্টরিসহ জঙ্গিদের মোট ৫০টি সুবিধাজনক স্থানে আঘাত হেনেছে।
ইতিমধ্যেই বিমান হামলা এবং জিহাদিদের পলায়নপরতার জন্য আইএস বিপর্যয়কর ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্ত্রাস বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ ‘এক্সপ্রেস.কো.ইউকে’ কে জানিয়েছে আইএস এখন এতটাই দূর্বল হয়ে পড়েছে যে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই তারা পরাজিত হতে পারে।
গত সপ্তাহে পুতিন আকাশপথে সিরিয়ায় আক্রমণ শুরু করে। এরইমধ্যে রাশিয়া আইএস এবং অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোর উপর অসংখ্য বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা তাদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু খুব কম ক্ষেত্রে আইএসকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে জানার পর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
পুতিন তার দীর্ঘ দিনের মিত্র আসাদকে সহায়তা করার জন্য সিরিয়া সরকারের জন্য হুমকির কারণ ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’সহ গণতন্ত্রপন্থি বিদ্রোহী দলগুলোর উপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর।
সূত্র: ডেইলি এক্সপ্রেস







