নাশকতার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রংপুরের পীরগাছার টাঙ্গাইল পাড়া থেকে জেএমবি’র একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় জেএমবির আস্তানার খবর ফাঁস হওয়ার পর জঙ্গি প্রতিরোধে মাঠে নেমেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি রায়হান কবিরের বাড়ি রংপুরের পীরগাছায় ইটাকুমারী ইউনিয়নের পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ায়। শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে দুর্গম ওই গ্রামে আত্মীয়তার সম্পর্ক মেলে রায়হান, মেহেদী, মাসুদ ও ইসাহাকের।
একজন এলাকাবাসী বলেন, ‘মেহেদী হাসান এখন পলাতক। কিন্তু আমরা মনে করলাম মেহেদী হাসান একাই আর কেউ নাই। এখন দেখি এর বের হয়, ও বের হয় পর্যায়ক্রমে এ অবস্থায় এসেছে।’
আরেকজন বলেন, ‘এখানে একটি বিশেষ তথ্য জানা দরকার যে, সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইয়ের দেশের বাড়ি কিন্তু টাঙ্গাইলে। এটাও কিন্তু পশুয়া টাঙ্গাইল পাড়া। টাঙ্গাইলের কিছু লোক কিন্তু এখানে বসবাস করে। সেই সূত্রে সেখান (টাঙ্গাইল) থেকে কিছু লোক এসে ঘাঁটি গেড়েছে। এটা অরজিনালি (আসলেই) জেএমবির আস্তানা।’
জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, মাজার খাদেম রহমত আলী ও বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিন হত্যা চেষ্টার আসামী মাসুদ রানা, ইসাহাক এবং কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি রায়হান কবির ও তার ভাই নিখোঁজ মেহেদী হাসানের বাড়ি একই এলাকায়।
তাদের বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে গড়ে উঠেছে রহস্যে ঘেরা একটি মসজিদ। মাসুদ রানা গ্রেফতারের পর মসজিদের পেছনের পুকুর থেকে পুলিশের অভিযানে পাওয়া যায় নানান সরঞ্জাম। রায়হান কবির নিহত হওয়ার পর থেকে জঙ্গি প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
ইটাকুমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান বলেন, ‘এই মসজিদটা হওয়াতে ওই এলাকার ছেলে-পেলেরা খারাপ পথে গেছে। ওখানে যারা আল্লাহর কথা কয়, তারাই ভেতরে ভেতরে অন্য কাজ করে। আমি শুনেছি ওখানে, রায়হানদের বাসায় বাইরের মানুষ এসে থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইসাহাক, মেহেদীর মতো ওই মসজিদের ইমাম সাহেব ও পলাতক। তার বাসায় চৌকিদার পাঠিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছে জানুয়ারি থেকেই সে মসজিদে নাই। একটা-দুইটা ঘটনা না এর মধ্যে তিনটা ঘটনা ঘটলো। এই জন্য দুঃখ লাগে এলাকাটাকে জেএমবির ঘাঁটি বলায়।’
চেয়ারম্যান বলেন, ‘এলাকাটা সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত হোক এটা আমি প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইবো। এছাড়া আমি নিজে এবং আমার যে মেম্বারর রয়েছেন তারা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সহযোগিতা করবো।’

নতুন করে জঙ্গি উত্থান রোধে পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়াসহ উত্তরাঞ্চলে, বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘যাদের নাম এসেছে তাদের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে গেছে এবং যে বাকি ছিল সেই রায়হান কবির কল্যাণপুরের ঘটনায় মারা গেছে। এছাড়া মেহেদী হাসানসহ যারা নিখোঁজ আছে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেএমবি নিয়ে পুলিশের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।







