পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলি আকন্দ ও আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদ আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত আজ এই রুল জারি করেন।
আইন সচিব ও উপসচিব (প্রশাসন-১)-কে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে আজ পত্রিকায় প্রকাশিত বদলি সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তবে এই বেঞ্চ এ বিষয়ে কোন আদেশ দেননি।
অন্যদিকে আব্দুল মান্নানকে বদলি সংক্রান্ত পত্রিকার সংবাদ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত তালুকদার আদালতকে একটি পত্রিকার এ সংক্রান্ত সংবাদ উপস্থাপন করে বলেন, ‘পিরোজপুরে উত্তেজনা চলাকালেই গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। এর পরপরই জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নানকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।’
এরপর আদালত আইনজীবী শিশির মনিরের উদ্দেশে বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি এ বিষয়ে অবগত হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আমরা কিভাবে এ বিষয়টি দেখবো? তাই এক্ষেত্রে সুয়ো মোটো আদেশ দেয়ার সুযোগ নেই। আর আপনারা প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে যেতে পারেন। এরপর শিশির মনির তার বক্তব্য শেষ করেন।
এছাড়া আলোচিত বদলির বিষয়টি নিয়ে বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি এ বদলির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আগামীকাল বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে।
গতকাল পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি করে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। আর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাসরিনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন ১) শেখ গোলাম মাহাবুব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে আগে মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুরের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল তিনটি মামলায় এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীন একটি মামলায় পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। দুপুরে শুনানি শেষে বিচারক মো. আবদুল মান্নান জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আদেশের পর আউয়াল ও লায়লা পারভীনের আইনজীবী আদালতে তাদের অসুস্থতার চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও ডিভিশন দেওয়ার আবেদন করেন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিচারক ডিভিশনসহ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
এর কিছুক্ষণ পর জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে বদলির চিঠি পাঠানো হয়। এরপর তিনি যুগ্ম ও জেলা জজ নাহিদ নাসরিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। বিকেল পৌনে চারটার দিকে আউয়াল ও লায়লা পারভীনের আইনজীবীরা ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাসরিনের কাছে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিকেল চারটার দিকে বিচারক আসামিদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।








