চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

পিতৃস্নেহ: চট্টগ্রামের মেয়র, ওয়ারেন বাফেট এবং মশিউরের জাপানী অভিজ্ঞতা

মোহাম্মদ গোলাম নবীমোহাম্মদ গোলাম নবী
৩:২৮ অপরাহ্ণ ১৩, নভেম্বর ২০১৬
মতামত
A A

এক.
ওয়ারেন বাফেটের নাম শুনে থাকবেন হয়তো। বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী। মোট সম্পত্তির পরিমাণ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। তিনি সাধারণ জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত। আজ থেকে ৫৮ বছর আগে কেনা ৫ বেডরুমের বাড়িতেই থাকেন। বাড়িটা কিনেছিলেন ৩১ হাজার ৫০০ ডলারে। তার তিন সন্তান। বড় মেয়ে সুসান বাফেট ২০০৬ সালে বাবার কাছে ৪১ হাজার ডলার ধার চেয়েছিলেন নিজের রান্নাঘরটা বদলানোর জন্য। একটু প্রশস্ত করার জন্য। তার বাবা তাকে টাকাটা দেননি। কারণ তার বাবা সবসময় চেয়েছেন তার সন্তানেরা আর্থিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হোক। তার ছেলে হাওয়ার্ড তার বাবার ১৫০০ একর জমিতে ফসল ফলানোর সিদ্ধান্ত নিলে সেটি তার বাবার কাছ থেকে ভাড়া নিতে হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৭৭ সালের। এখনও তিনি সেই জমিতেই ফসল ফলান আর বাবাকে ভাড়ার টাকা দেন। তবে ওয়ারেন বাফেট একা নন সন্তানদের আত্মনির্ভরশীল করার ও সাধারণ জীবনযাপনের শিক্ষা আরো অনেক ধনীরাই দেন। এবং তারা নিজেরাও সেই জীবনযাপন করেন।

যেমন ইনগভার ক্যাম্প্রাড। ইউরোপের অন্যতম ধনী। মোট সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। ভ্রমণ করেন ইকোনমি ক্লাসে। অফিসে যখন থাকেন অন্যদের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়াতেই খান। এই প্রসঙ্গে বিল গেটসের কথাও বলতে হয়। মাইক্রোসফটের বিল গেটস সম্পর্কে কমবেশি সবাই জানেন। তিনি নিজে খুব একটা সাধারণ জীবনযাপন করেন না। তার বাড়ির মূল্য বাংলাদেশী টাকায় ১০০০ কোটি টাকা আর প্রতি বছর বাড়ির ট্যাক্স দেন ৮ কোটি টাকা। কিন্তু তিনি সন্তানদের বাবার সম্পদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ওয়ারেন বাফেটের মতোই। বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। এখান থেকে পৈত্রিক

ওয়ারেন বাফেট
ওয়ারেন বাফেট

সম্পত্তি হিসেবে তার তিন সন্তানের প্রত্যেকে পাবে মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬০ কোটি টাকা। কার্লোস স্লিম হেলু শুধু মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় ধনী নন, তিনি বিশ্বের সেরা ধনীও হয়েছিলেন একবছর। তিনি গত ৪০ বছর ধরে ছয় বেডরুমের বাড়িতেই থাকেন। তার সন্তানেরাও তার সাথে থাকে। যৌথ পরিবার। ইচ্ছে করলেই তিনি ও তার সন্তানেরা বড় বড় প্রাসাদ আকারের বাড়িতে থাকতে পারেন। এই তালিকা অনেক বড় করা যাবে। প্রশ্ন হলো- এই ধনী মানুষদের মধ্যে কি পিতৃস্নেহ নেই? চলুন এবার অন্যত্র দেখা যাক।

দুই.
কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় যে, চট্টগ্রামের মেয়র দেড় কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি কিনছেন। তিনি ধনী মানুষ। প্রতি বছর তার যে আয় হয় তাতে আরো দামী গাড়ি তিনি কিনতে পারেন। সেই সামর্থ্য তার আছে। তিনি যে গাড়িটি কিনেছেন সেটা ঢাকা শহরে হরহামেশা দেখা যায়। সওদাগরদের শহর চট্টগ্রামেও এরচেয়ে অনেক বেশি দামের গাড়ি রাস্তায় ছুটে বেড়ায়। গাড়ি কেনার বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অন্য কারণে। কারণটি হলো, মাননীয় মেয়র সাংবাদিকদের বলেছেন যে গাড়িটি তিনি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলের শখ পূরণের জন্য কিনেছেন (তার ছেলে এই গাড়িতে করে স্কুলে যাবে)। এই একটি লাইন আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে নানান ভাবনার জগতে। আমি একা নই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আরো অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- সামর্থ্য থাকলেই আমরা সন্তানের সকল শখ পূরণে কোটি টাকা খরচ করব কি না? দেখুন, ওয়ারেন বাফেট কিন্তু তার মেয়ের জন্য সামান্য ৪১ হাজার ডলার খরচ করেননি। এমনকি ধারও দেননি। আমার এক ফেসবুক বন্ধু মি. মুশতাক আহমেদ এবিষয়ে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: ‘আমার বাবা আমাকে আমার ঠিক ঐ বয়সে একটা সাইকেল কিনে দিয়েছিলো, সেটাই ছিল আমার প্রথম সাইকেল, দাম ছিল ১৫০০ টাকা। ১৯৮০ সালে আমরা ছিলাম চট্টগ্রামে। আমার বাবা তখন ছিলেন ইস্টার্ন ক্যাবলস এর এমডি। আমি গর্বিত যে তিনি আমাকে সেরা শিক্ষাটা দিয়েছেন। বুঝ হওয়ার পর থেকেই বাসায় গাড়ি দেখেছি, কিন্তু সেটা আমার স্কুলে যাওয়ার জন্য না। যেহেতু সেটা ছিল সরকারি গাড়ি।’ আরো অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ একথাও বলেছেন যে, একজন বাবা তার সন্তানের জন্য সবচেয়ে দামী গাড়ি কিনতেই পারেন। সন্তানের শখ পূরণের জন্যই তো তিনি বাবা। একথারও যথেষ্ট যুক্তি আছে। পিতৃস্নেহ প্রকাশের হাজারো পথ ও মত আছে বৈকি। তাছাড়া এখানে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয় সেটা নির্ণয় করা সহজ কাজ নয়। ঠিক কিভাবে সন্তানকে লালন পালন করলে ভালো হবে তা নিশ্চিত করে সবসময় বলা যায় না। তবে সাধারণভাবে আমরা ধারণা করতে পারি স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েকে অত্যধিক ভোগ বিলাসের দিকে না নিয়ে যাওয়াই ভালো। তাকে বাস্তবতা বুঝতে দেওয়া ভালো। এবং এমন একটি পরিবেশে তাকে বড় করা ভালো যার মাধ্যমে সন্তানের মনে ইতিবাচক মানবতাবোধ তৈরি হবে। আমি একটা উদাহরণ খুঁজছিলাম। তখনই মনে হলো জাপানের দিকে তাকানো যেতে পারে। কারণ জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন উন্নত, তেমনি জাপান দেশ হিসেবেও বিশ্বের বুকে সম্মানিত। সেখানকার ছেলেমেয়েরা কিভাবে স্কুলে যায়, স্কুলে গিয়ে কি শেখে ইত্যাদি জানার আগ্রহ হলো। সেকথা জানতেই শরনাপন্ন হলাম মি. মশিউর রহমানের।

স্পোটর্স জাপানের স্কুলগুলোতে একটা নিয়মিত বিষয়। ছবিতে মশিউরের বড় ছেলে আফিফকে স্কুল মাঠে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।
স্পোটর্স জাপানের স্কুলগুলোতে একটা নিয়মিত বিষয়। ছবিতে মশিউরের বড় ছেলে আফিফকে স্কুল মাঠে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

তিন.
মশিউর রহমান আমার বন্ধু মানুষ। সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে এনজিও সেক্টরে কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আমার পরিচয় এনজিওতে কাজের সুবাদে। আমরা এক সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। আমি মশিউরকে ফোন দিলাম। আমার উদ্দেশ্যের কথা বললাম। মশিউর আমাকে তার সন্তানদের উদাহরণ দিয়ে তার দেখা জাপানের শিক্ষা ও স্কুলিং সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিলো। আমি নিচে সেই কথাই বলছি। এখানে বলা দরকার যে, মশিউর খুবই সংবেদনশীল একজন মানুষ। দেশকে অনেক ভালোবাসেন। জাপানে থাকলেও বাংলাদেশ সবসময় তার অন্তরে থাকে। চাঁদপুরের রামপুর গ্রামের মানুষ মশিউরের পরিবার জনকল্যাণের জন্য সুপরিচিত। মশিউর যখন কোন কিছু দেখেন খুব গভীর বোধ থেকে দেখার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে আমার আলাপচারিতা থেকে এখানে কিছুটা তুলে দিচ্ছি। তার সঙ্গে আমার অনেক কথাই হয়, আজ এখানে আমি শুধু সন্তানের স্কুলে যাওয়া ও পড়ালেখা নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করব, যার মধ্য থেকে আমরা পিতৃস্নেহের দিকটি বোঝার চেষ্টা করব।

চার.

জাপানের শিশুরা এভাবেই স্কুলে যায়। এই দৃশ্যটি সোমবারের। এই দিন ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলের বই খাতা ছাড়া বাড়তি জিনিস যেমন, ডাইনিং এপ্রোন, আলাদা জুতা ইত্যাদি নিয়ে যেতে হয়। আর একটি বিষয় লক্ষ্য করুন হলুদ ব্যাগের পেছনে একটি চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এই ব্যাগধারী ক্লাস ওয়ানে পড়ে। এই চিহ্নসহ ব্যাগ যাদের তাদেরকে রাস্তাঘাটে সবাই আলাদাভাবে সহযোগিতা করে, যদি দরকার হয়। কারণ ওর বয়স ছয় এবং ও এই প্রথম একা একা স্কুলে আসতে শুরু করেছে।
জাপানের শিশুরা এভাবেই স্কুলে যায়। এই দৃশ্যটি সোমবারের। এই দিন ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলের বই খাতা ছাড়া বাড়তি জিনিস যেমন, ডাইনিং এপ্রোন, আলাদা জুতা ইত্যাদি নিয়ে যেতে হয়। আর একটি বিষয় লক্ষ্য করুন হলুদ ব্যাগের পেছনে একটি চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এই ব্যাগধারী ক্লাস ওয়ানে পড়ে। এই চিহ্নসহ ব্যাগ যাদের তাদেরকে রাস্তাঘাটে সবাই আলাদাভাবে সহযোগিতা করে, যদি দরকার হয়। কারণ ওর বয়স ছয় এবং ও এই প্রথম একা একা স্কুলে আসতে শুরু করেছে।
Reneta

মশিউর তার স্ত্রী সাজেদা ও দুই ছেলে আফিফ আর আতিফকে ২০০৮ সালে জাপানে নিয়ে আসেন। তখন বড় ছেলে আফিফের বয়স ৩ বছর আর আতিফের বয়স ৯ মাস। জাপানে আসার পরই মশিউর আফিফ ও আতিফ দুজনকেই প্রি-প্রাইমারিতে (জাপানী ভাষায় Hoikuen) ভর্তি করে দিলেন। এখন আফিফ ও আতিফ দু’জনেই প্রাইমারি (জাপানী ভাষায় Shougakko) স্কুলে যাচ্ছে। বড়টা ক্লাস ফাইভে। আর ছোট আতিফ যাচ্ছে ক্লাস থ্রীতে। মশিউরের ছেলেরা গাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে চায় না। শীতকালে কখনো যদি বরফ বেশি থাকে মশিউর ছেলেদের গাড়ি দিয়ে নামিয়ে দিতে চায়। ছেলেরা এক ব্লক আগেই গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। ওদের শরম লাগে। অন্য সবার মতো হেঁটে হেঁটে স্কুলে যায়। আসলে জাপানে সব ছেলেমেয়ে হেঁটেই স্কুলে যায়। কমবেশি আধাঘণ্টার হাঁটা দূরত্বে সবাই থাকে। স্কুলে এমন ছেলে মেয়ে আছে যাদের বাড়িতে হয়তো তিনটি গাড়ি আছে কিন্তু কোন গাড়িই ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনা নেওয়া করে না। আবার ওই বাড়ির কেউ যখন একা দোকানে বা অন্য কোথাও যায় তখনও গাড়ি নয়, সাইকেলে যায়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বাঙালি মশিউরের পিতৃস্নেহও ধীরে ধীরে ‘জাপানী’ হয়ে গেছে। মশিউর এখন আর ছেলেদের ‘শরম’ দেওয়ার চেষ্টা করে না।

জাপানের স্কুলগুলো শুধু লেখাপড়া শেখায় না। জীবনঘনিষ্ঠ অনেক কিছু শেখায়। ফলে জাপানের ছেলেমেয়েরা তাদের বাবার কাছে কখনো ‘শখ’ হিসেবে দামী গাড়ি বাড়ি চায় না। জাপানের শিশুরা জানে ওটা বড় হয়ে তাকেই করতে হবে। জাপানের শিশুরা যখন প্রি-প্রাইমারিতে পড়ে তখন মা-বাবা তাদের সঙ্গে স্কুলে যান। সন্তানের বয়স ছয় বছর হলেই শিশুটি ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয় আর তখন থেকেই একা একা যাওয়া শুরু হয়। প্রথম একবছর শিশুর স্কুল ব্যাগে একটি বিশেষ চিহ্ন থাকে। ওই চিহ্ন দেখে সবাই বুঝতে পারে ওই শিশুটির বয়স ছয়। ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তাকে পথে ঘাটে সবাই সাহায্য করে, যদি দরকার হয়। ট্রাফিক পুলিশও ব্যাপারটা জানে। আসলে সবাই জানে। কারণ জাপানের শিশু মানেই আগামীর ভবিষ্যত। ওটা আমাদের দেশের মতো মুখে মুখে নয়। বাস্তবে। সেভাবেই দেখে সবাই। শিশুদের স্কুলে শেখানো হয় বাবা-মাকে বাড়িতে কাজে সাহায্য করতে হবে। সন্তানদের টাওয়াল কিনে দিতে হয়, স্কুলে ফ্লোর মোছায়। জাপানের শিশুরা সাইকেল নিয়ে স্কুলে যেতে পারে, তবে সেটা ক্লাস সিক্স থেকে। স্কুলে অনেক কিছু শেখানো হয়। সবচেয়ে বেশি যেটা শেখানো হয় সেটা হলো বৈষম্যহীনতা ও মানবতা। অন্যের প্রতি সহমর্মিতা। শিশুদের মধ্যে যেন অহংকার তৈরি না হয় সেব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ খুবই সচেতন থাকে। স্কুলের শিশুরা দামী পেনসিল বক্স, পেনসিল, রাবার ইত্যাদি নেয় না। এমনকি তাদের স্কুল ব্যাগগুলোও দেখতে প্রায় একই রকম। ছোট বেলা থেকেই তাদেরকে শেখানো হয় ‘শো-অফ’ করা বা লোক দেখানো লজ্জার ব্যাপার। আমাদের দেশে

মি. মশিউর রহমানের ছোট ছেলে আতিফ হেঁটে স্কুলে যাচ্ছে।
মি. মশিউর রহমানের ছোট ছেলে আতিফ হেঁটে স্কুলে যাচ্ছে।

শুধুমাত্র স্কুল ড্রেসের মাধ্যমে একটা সমতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। খুব কম স্কুলেই পেনসিল, রাবার, জ্যামিতি বক্স, জুতা, পানির বোতল, রুমাল, স্কুল ব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে গাইডলাইন থাকে। জাপানের স্কুলগুলোতে প্রাইমারির শিশুরা বাড়ি থেকে খাবার নেয় না। স্কুলই খাবার দেয়। এই খাবার আবার বয়স অনুয়ায়ী ক্যালরি মেপে দেওয়া হয়। স্কুলে প্রতিদিন ভাত, গরুর দুধ ২৫০ এমএল, সালাদ এবং মাছ কিংবা মাংস থাকে। তাছাড়া জাপানের স্কুলে শিশুদের প্রাকটিক্যাল জীবন শেখানো হয়। একটু একটু করে জীবনের সঙ্গে জড়িত সবকিছু শেখানো হয়। শিশুরা যা খায় সেটা কীভাবে তৈরি হয় কারাখানায় নিয়ে গিয়ে সেটাও তাদেরকে দেখানো হয়। বাংলাদেশের মতো ভেজাল খাওয়া তৈরি হয় না জাপানের কারখানায়। ওরা জানে না ভেজাল কি জিনিস। এভাবেই ছোট বেলা থেকেই জাপানের শিশুরা সত্যিকারের মানুষ হিসেবে বড় হয়ে উঠে। তাদের মধ্যে স্কুল ও পরিবারের শিক্ষার মধ্য দিয়ে এই মানবিক বোধ তৈরি হয় বলেই আমরা দেখতে পাই সুনামীর মতো বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জাপানের মানুষ কতোটা পরস্পরের চাহিদার প্রতি মানবিক ও শ্রদ্ধাশীল। জাপানের শিশুরা কখনো পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয় না আবার অন্ধ পিতৃস্নেহ দ্বারা বিপদগামীও হয় না।

পাঁচ.
মশিউর আমার কাছে জানতে চেয়েছিল- বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আমরা কেন ভালো মানুষ হতে পারি না? জাপান পারলে আমাদের বাধা কোথায়? আমি মশিউরকে বলেছি তাকেই খুঁজে বের করতে। কারণ জাপানে তো আমি থাকি না মশিউর থাকে। সে যেমন একদিকে জাপান দেখছে, বাংলাদেশও চেনে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর নৌযান দেখলেই গুলির নির্দেশ ট্রাম্পের

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না মোস্তাফিজ-নাহিদের

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খানের পদত্যাগ

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কা নেই ইয়ামালের

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT