অ্যান-ফিল্ডে প্রথম দেখায় লিভারপুলের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ইটের জবাব পাটকেলে দিতে চেয়েছিল ভিয়ারিয়াল। প্রথমার্ধে দুই গোল শোধ দিয়ে লেগ সমতায় এনে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের। প্রথমার্ধের খ্যাপাটে দল দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারালে সুযোগ লুফে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় অল রেড। রিয়ালের ডেরায় বাজিমাত করে তিন গোল ফেরত দিয়ে শেষপর্যন্ত ৫-২ ব্যবধান গড়ে ফাইনালে পা রাখে লিভারপুল।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠতে নাটকীয় কিছু করে দেখাতে হত ভিয়ারিয়ালকে। শেষ ষোলোতে জুভেন্টাস ও বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে আসা দল নিজেদের ডেরায় হুঙ্কার দিবে জানা ছিল ক্লপের। প্রথম লেগে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পরও তায় কিনা ম্যাচ শেষে ব্যবধান বড় না হওয়ার আক্ষেপ ছিল ক্লপের কণ্ঠে।
প্রথমার্ধে হয়েছিলো ও তাই। বিশাল সমর্থকদের সামনে ম্যাচ শুরুর তিন মিনিট না পেরোতেই এতিয়েন ক্যাপের বাড়িয়ে দেয়া বল জালে পাঠিয়ে ভিয়ারিয়ালকে উল্লাসের মুহূর্ত এনে দেন দিয়া। গোল করে উজ্জীবিত দল ছুটে আরেক এক গোলের নেশায়। ২৩ মিনিটে ভিয়ারিয়াল ডিফেন্স ভুল করলেও সুযোগ লুফে নিতে ব্যর্থ হয় মোহাম্মেদ সালাহ।
৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় ভিয়ারিয়াল। তবে জিওভানি লো সেলসো গোল রক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে সমতায় ফেরা হয়নি। খানিক পর ৪১ মিনিটে এতিয়েন ক্যাপের ক্রস লাফিয়ে ওঠে দারুণ হেডে জালে পাঠায় ফ্রান্সিস কোকুয়েলিন। ২ গোল শোধ করে সমতা গড়ে বিরতিতে যায় ভিয়ারিয়াল।
মাঝের সময়টায় ঘোর কাটে লিভারপুলের। মৌসুমে চতুর্থ শিরোপা যাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাদের রুখে সাধ্য কার। প্রথমার্ধের আগ্রাসী দলকে বাগে আনতে কৌশলী পরিকল্পনা সাজায় ক্লপ। তাতেই বধ উনাই এমেরি শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ থেকে ৭৪ মাঝের ১২ মিনিটে ৩ গোল দেয় ক্লপের শিষ্যরা।
বিরতি থেকে ফিরে ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ। তবে গোল পেতে সময় নিচ্ছিল। ৬২ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই ক্ষণ। সালাহর বাড়ানো বল জালে পাঠিয়ে উৎসবে মাতেন ফাবিনহো। খানিক পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস ডিয়াজ। ৭৪ মিনিটে ভিয়ারিয়ালের জালে শেষ পেরেক ঠুকে ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্লপের দল।
অপর সেমিফাইনালে রাতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্রথম লেগে ৪-৩ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি। জয়ী দল আগামী ২৮ মে লিভারপুলের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে।








