মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাস চাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আগামি দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রিন লাইন পরিবহনকে এ টাকা দিতে বলা হয়েছে। সেই সাথে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষের খরচে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাসেলের বিচ্ছিন্ন পায়ে কৃত্রিম পা লাগাতে বলেছেন আদালত।
এছাড়াও রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে, সে খরচও গ্রিন লাইনকে দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই যুবককে চাপা দেওয়ার পর গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসটি এবং তার চালককে পুলিশ আটক করে।
পরে পুলিশ জানায়, মো. রাসেল (২৫) নামে ওই যুবক একটি প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন। বাসটি তার গাড়িকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদ জানাতে বাস থামাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস চালক তার উপর দিয়েই চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ির বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিঢ় হাউজিংয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন।
রাসেলের পা হারানোর ঘটনার পর গত বছরের ১৪ মে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এই আদেশ দিলেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। আর গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ওজি উল্লাহ ও আফরোজা খানম।








