উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও দুর্ভোগে রয়েছেন দুর্গত মানুষ। টানা বন্যায় অনেক পরিবার বাঁধ ও পাকা সড়কে গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরে পানি না নামায় পরিবারগুলো ঘরে ফিরতে পারছে না।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ গো-খাদ্যের সংকট চরম আকার ধারণ করছে। বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা চলছে।
চলমান বন্যায় সিরাজগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। পানিবন্দী কমতে থাকায় মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু চরাঞ্চলগুলো থেকে পানি না নামায় ৮টি উপজেলার ৪শ’২৫টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
গাইবান্ধায় পানি কমতে শুরু করলেও পানিবাহিত নানা রোগ শুরু হয়েছে। সে তুলনায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না দুর্গত মানুষ। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা এবং সুন্দরগঞ্জের ১শ’৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে। 
পাশাপাশি বন্যার পানিতে ৬শ’ ৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বন্যাকবলিত ৪ উপজেলায় ৭৫টি মেডিকেল টিম প্রতিদিনই বন্যাকবলিত মানুষকে খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত এসব মানুষকে সহায়তার জন্য হাত বাড়াচ্ছে সারা দেশের মানুষ। নানান জনে নানানভাবে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
উদীচির ত্রাণ:
বন্যার্তদের সাহায্যার্থে দেশব্যাপী ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উদীচী শিল্পগোষ্ঠী। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উদীচীর জেলা ও শাখা সংসদসমূহ নগদ অর্থ, খাদ্য, ঔষধসহ নানা ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সংসদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আক্রান্ত জেলাগুলোতে পাঠানো হবে। এসব বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে অবস্থিত উদীচী’র শাখাসমূহ এরই মধ্যে নিজ নিজ উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশব্যাপী ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আহবান জানিয়েছে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ।
বাতিঘরের আহবান:
বন্যা কবলিত মানুষগুলোর জন্য নিজের অন্তত একবেলার খাবার স্যাক্রিফাইস করে কিছু করার আহবান জানিয়েছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়।
বন্যার্তদের সাহায্য করতে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে কিছু অর্থ বন্যার্তদের সাহায্যে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তারা। পাশাপাশি সবাইকে আহবান জানান ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা প্রদান করার জন্য। তবে শুধু বাতিঘর পরিবারের সদস্যরাই নয়, এর বাইরের যে কেউ চাইলে বাড়াতে পারেন সহায়তার হাত।
আগামী রবিবার প্রথম দফায় বাতিঘরের সাহায্য পাঠানো হবে দুর্গত এলাকায়। পরের রবিবার আবারো। যেকেউ চাইলে বিকাশ করতে পারেন ০১৬২৪৮০৪০৪৮ নাম্বারে।
প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারেন বাতিঘরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্ট নাম: Batighar অ্যাকাউন্ট নাম্বার: 0460210005846 মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (Mutual Trust Bank Ltd). MTB CENTRE CORPORATE Branch.
অ্যাকাউন্ট হোল্ডার: Md. Mehedi Hasan ফোন: ০১৬২৪৮০৪০৪৮।
চাইলে কেউ যেতে পারেন দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরন কাজে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে ০১৭৬৭৮৪৫৮৭৩/ ০১৬২৪৮০৪০৪৮ নাম্বারে।
মিশন কুড়িগ্রাম: বন্যা দুর্গতদের পাশে তারুণ্য:
ভয়াবহ এই দুর্যোগের সময় ফেসবুকেও চলছে প্রচারণা। মিশন কুড়িগ্রাম: বন্যা দুর্গতদের পাশে তারুণ্য এই নামে একটি ফেসবুক পেজ সবার কাছে ‘একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা’ এই আবেদন জানিয়ে যাচ্ছে দুর্গতদের জন্য সাহায্যের হাত এগিয়ে দিতে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, যমুনার যেসব দুর্গম চরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা ত্রাণ পৌঁছেনি সেখানে যাচ্ছে তারা। সঙ্গে যাচ্ছে চাল, ডাল, আলু, চিড়া জাতীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্রসহ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল টিম।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও যাচ্ছেন এই টিমের সঙ্গেই।
সামর্থ অনুযায়ী চাল, ডাল, আলু, শুকনা খাবার, ঔষধ, স্যালাইন কিংবা আর্থিক সহায়তা সেখানে পৌঁছে দিতে পারবেন যে কেউ। চাইলে বিকাশ কিংবা ব্যাংক একাউন্টেও আপনার সহায়তা পাঠাতে পারেন।
ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং: +৮৮০১৭৫৪৭০৬৮৮৩৮
বিকাশ নম্বরঃ +৮৮০১৯৩২২১৫৪৮২, +৮৮০১৯২৯১০১১৮১, +৮৮০১৭৫৪৭০৬৮৮৩, +৮৮০১৭২৮৪২৩৫৪৭
ব্যাংক একাউন্টঃ Mahfuza Haque, Brac Bank, A/C No: 1505100323855001








