অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেয়া ২৩৭ রানের লক্ষ্য ৩১ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই টপকে গেছে পাকরা।
শুরুতে তিনশর সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪৯.২ ওভারে ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর রসদে তখন মনে হচ্ছিল সেমিতে এক পা দিয়ে রাখল পাকিস্তান। কিন্তু লঙ্কানদের লড়াইয়ে থাকার দৃঢ় মনোবলের কাছে হঠাৎ পথ হারাতে থাকে তারা। পরে আবারো ঘুরে দাঁড়ানো। সরফরাজ ও আমির অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটি গড়ে লঙ্কানদের আশা শেষ করে দেন।
জবাব দিতে নেমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পাওয়া ফাহার জামানের (৫০) সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন আজহার আলি (৩৪)। শূন্য রানে মালিঙ্গার বলে পয়েন্টে আজহারের সহজ ক্যাচ ছেড়ে গুনাথিলাকা বড় মাশুলই গুনেছেন।
সেটি পরে পুষিয়ে নিয়েছিলেন লঙ্কান বোলাররা। ১ উইকেটে ৯২ থেকে পাকিস্তান দ্রুত ৪ উইকেটে ১১০ হলে দারুণ মোড়ে পৌঁছায় ম্যাচ। তখন বাবর আজম ১০, মোহাম্মদ হাফিজ ১, শোয়েব মালিক ১১, ইমাদ ওয়াসিম ৪ রানে সাজঘরে।
ফাহিম আশরাফকে (১৫) রান আউটে সাজঘরে ফিরিয়ে সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন পেরেরা। এরপরই মোহাম্মদ আমিরকে নিয়ে সরফরাজ আহমেদের প্রতিরোধ। তারা যখন থামবেন বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, পাকিস্তান ততক্ষণে জয়ে নোঙর ফেলেছে।
শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের মতই এক ইনিংস খেলে ৬১ রানে অপরাজিত সরফরাজ, আমির অপরাজিত ২৮ রানে, মূল্যবান ৪৩ বল খেলে, আর অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৫টি ওভার সরফরাজকে সঙ্গ দিয়ে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা ছুটছিল দুরন্ত গতিতেই। তিন উইকেট হারিয়ে দেড়শ পেরিয়ে গিয়েছিল তারা। তখন তিনশ মামুলি ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। এরপরই জ্বলে ওঠেন পাকিস্তানি পেসাররা। মাত্র ৬ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান ইনিংসে ধস নামান তারা।
ষষ্ঠ ওভারে ধানুশকা গুনাথিলাকাকে (১৩) হারিয়ে শুরু লঙ্কানদের। নিরোশান ডিকভেল্লা ৭৩ রানের প্রতিরোধ গড়লেও মাঝে কুশল মেন্ডিস (২৭), দিনেশ চান্ডিমাল (০) ফিরে যান। পরে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৩৯ রানে সম্ভাবনা ধরে রেখেছিলেন।
কিন্তু তারপরের ধাক্কা আর সামলে ওঠা হয়নি শ্রীলঙ্কার। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১, থিসারা পেরেরা ১, সুরঙ্গা লাকমাল ২৬ ও অ্যাসেলা গুনারত্নের ২৭ রানে আড়াইশ পর্যন্তও যেতে পারেনি লঙ্কানরা।
পাকিস্তানের চার পেসার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ১০ উইকেট। জুনায়েদ খান ও হাসান আলির দখলে ৩টি করে উইকেট; আমির ও ফাহিম আশরাফ নিয়েছেন ২টি করে।







