পাবনার সুজানগর উপজেলা সদরের নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজকে (এন এ কলেজ) জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে এন এ কলেজ রক্ষা কমিটি।
কলেজটিকে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এন এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, এন এ কলেজের নাম বাদ দেয়ার পর ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে সুজানগরের রাজপথ। প্রতিদিন সেখানে সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোন মুহূর্তে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার মতো ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয় মানববন্ধনে।
আন্দোলনকারীরা জানান, ১৯৮৪ সালে নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ৩০ জুন সরকারের যথাযথ নীতিমালার ভিত্তিতে এ কলেজটি জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিদর্শন কাজও শেষ হয়।
তবে গত ৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক চিঠিতে সুজানগর নিজাম উদ্দিন আজগর আলী কলেজটিকে জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে একই উপজেলার দুলাই ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
এন এ কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পরে তালিকাভুক্ত হওয়া ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তাদের কলেজকে জাতীয়করণের হীনস্বার্থে নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজটির প্রতিষ্ঠাতারা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা অভিযোগ করে। এরপর কোনো তদন্ত ছাড়াই জাতীয়করণের তালিকা থেকে নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজের নাম বাদ দিয়ে ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত করা হয়।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, কলেজটি পুনরায় জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে সুজানগরের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠিান এবং অফিস-আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সুজানগর পৌরসভার মেয়র আবদুল ওহাব, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম প্রমুখ।







