পাকিস্তানে সেনা মোতায়েন করছে চীন। ৩০০০ কিলোমিটার লম্বা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানে এই বাহিনী পাঠাচ্ছে বেইজিং। ওই করিডরের নিরাপত্তার জন্য ১১ সৈন্য নিয়ে পাকিস্তানও বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছে।
ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ‘প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’(পিটিআই) জানায়, পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চীনা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।
পিটিআই আরো জানায়, পাকিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন করায় সীমান্তের নিরাপত্তা সতর্ক ব্যবস্থা বাড়িয়েছে ভারত। সীমান্তাঞ্চলে বাড়ানো হয়েছে সেনা সংখ্যাও।
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এমন এলাকার মধ্যে দিয়ে গেছে, যার প্রায় পুরোটাই সন্ত্রাসে হামলায় জরাজীর্ণ। সেটা মোকাবেলা করতেই চীন ৩ হাজার পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্য পাঠাচ্ছে পাকিস্তানে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের বিভিন্ন এলাকায় এই সেনা মোতায়েন থাকবে।
চীনের পাঠানো ৩ হাজার সেনার সঙ্গে করিডরে মোতায়েন থাকবে পাকিস্তানের নিজস্ব বাহিনীও। শুধু করিডরের নিরাপত্তার জন্যই পাকিস্তান তিনটি বিশেষ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড বানিয়েছে। প্রতিটিতে তিনটি করে রেজিমেন্ট। অর্থাৎ মোট ৯০০০ সেনা। এ ছাড়াও গঠন করা হয়েছে দু’টি বিশেষ আর্টিলারি রেজিমেন্ট। অর্থাৎ আরো ২০০০ সেনা। সব মিলিয়ে ১১ হাজারের বাহিনী।
পাকিস্তান হঠাৎ সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোয় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের মূল প্রতিবাদ, পাকিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হওয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দাবি, করিডরের নিরাপত্তার নামে আসলে ভারতের পশ্চিম সীমান্তেও নিজেদের সেনা মোতায়েন করতে চায় চীন।
গিলগিট-বাল্টিস্তানে চীন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভারত আরো বেশি অসন্তুষ্ট। ওই অঞ্চল কাশ্মীরের অংশ। সেই এলাকা নিয়ে বিতর্ক মেটার আগেই পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানে সেনা পাঠানোকে চীনের অনধিকার প্রবেশ হিসেবে দেখছে ভারত।






