প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তান পরাজিত শক্তি। তারা যা বলছে আমরা প্রতিবাদ করছি। যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর ঘটনার পরও দেশটির সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক পরিবর্তনের পদক্ষেপ বিষয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়া ঝাটিও চলবে।
তবে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে কিংবা সার্ক বিষয়ে অন্য কোন বিকল্প নিয়ে বাংলাদেশ এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলে তিনি জানান। দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বা সমস্যা সমাধানে সার্ক কিছু করতে পারছে না বলে একটা পদ্ধতি বের করা উচিত বলেও অভিমত প্রধানমন্ত্রীর।
কানাডায় গ্লোবাল ফান্ডের ৫ম রিপ্লেনিশমেন্ট সম্মেলন এবং যক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন। সফরের নানা বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে তার বাবা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ইলিয়ট ট্রুডোকে দেয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা হস্তান্তর করেছেন। আলোচনা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরার পর চ্যানেল আই’র প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তান এবং সার্ক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
গণভবনে ওই সংবাদ সম্মেলনে সেসময় তার ডান পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কানাডার আইনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ৩৫ বছরে প্রথমবারের মতো তিনি পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। তবে এসময়েও তিনি ৫১টি ফাইল নিষ্পত্তি করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনের ব্যাপারে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সবসময়ই দলের সঙ্গে আছেন, তবে অন্য কেউ দায়িত্ব নিলে তিনি একটু বিশ্রাম পান। সেসময় গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দলীয় নেতা এবং মন্ত্রীরা ‘না-না’ বলতে থাকেন এবং তাকেই নেতৃত্বে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিস্তারিত জানাতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মা হিসেবে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইসিটি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘মা হিসেবে এটা অনেক গৌরবের বিষয় ছিল,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে জয় আরো ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা করেন।








