‘আমরা যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলি, রোমাঞ্চিত থাকি। জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত থাকি। স্বাভাবিক খেলার জন্য নিজেরা আলোচনা করেছিলাম। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল। আগের যে দুই ম্যাচ খেলেছি, তাতে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এই খেলাটায় স্বাভাবিক খেলব। কোচিংস্টাফরা যেটা করতে বলেছিল, সেটা পেরেছি।’
মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের পর ম্যাচসেরা ফাহিমা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে বললেন এভাবেই। এদিন ৩ উইকেট নিয়েছেন টাইগ্রেস লেগ স্পিনার।
২০১৮ সালে টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচেও ফাহিমা হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। হ্যামিল্টনে আবারও হাতে উঠল সেরার ট্রফি। পাকিস্তান যেন শুধু বাংলাদেশের নয়, ফাহিমারও প্রিয় প্রতিপক্ষের নাম! দলটির বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১২ বারের দেখায় ৬ বারই মিলেছে জয়, শেষ তিন ম্যাচে বিজয়ী দলটির নামও বাংলাদেশ।
‘পাকিস্তানের সঙ্গে সেই ম্যাচে সেরা হয়েছিলাম। আজও হয়েছি। এটা অনেক বড় পাওয়া। বাংলাদেশের (নারী দলের) এটি সবচেয়ে বড় জয়। পাকিস্তানের সঙ্গে জেতা আমাদের খুবই উৎসাহিত করে।’
হ্যামিল্টনে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ তুলেছিল ৭ উইকেটে ২৩৪ রান। সংগ্রহটা যথেষ্ট মনে হয়নি ফাহিমার। তবুও কেন তা জয়ের পথে বাধা হয়নি জানালেন টাইগ্রেস তারকা।
‘আমরা আলোচনায় বলেছিলাম, ২৫০ রান করতে পারলে জয় অনেক সহজ হবে। দুর্ভাগ্যবশত সেই স্কোর করতে পারিনি। তবে আমাদের বোলিং লাইনআপ আসলেই ভালো ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী জায়গামতো বল ফেলতে পেরেছি। তাই সফল হতে পেরেছি। রানের চাপ থাকলে ওরাই আমাদের উইকেট দেবে। কারণ যখন বোলিংয়ে এসেছিলাম, ওদের প্রয়োজনীয় রানরেট সাড়ে ৬ থেকে ৭-এর মতো ছিল।’
২৩৫ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল। ওপেনিংয়ে গড়েছিল ৯১ রানের জুটি। ১ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ছিল ১৫৫ রান। এক পর্যায়ে যা ২ উইকেটে ১৮৩ রানে পৌঁছায়।
এরপরই ফাহিমার দারুণ স্পেলে ৫ রানের মধ্যে তাদের ৫ উইকেট তুলে নেয় লাল-সবুজের দল। যার মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেন ম্যাচসেরা লেগ স্পিনার। পাকিস্তান হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৮৮। সেই দারুণ স্পেলের আগে সতীর্থদের সঙ্গে কী আলোচনা করেছিলেন?
ফাহিমা জানান, ‘আলোচনা করেছিলাম জায়গামতো বল করার ব্যাপারে ও ডট বল করে যাওয়া নিয়ে।’
‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি। যেহেতু প্রথম বিশ্বকাপ, তাই দারুণ স্মৃতি নিয়ে ফিরতে চাই। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এটার ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের দলের মূলমন্ত্র থাকে দল হিসেবে পারফরম্যান্স করব।’
সাউথ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি ফাহিমা। বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগই করেছেন বাজিমাত। একাদশে থাকা না থাকার হিসাবের চেয়ে দলের প্রয়োজনকেই বড় করে দেখেন ২৯ বর্ষী লাল-সবুজ তারকা।
‘সবসময় দলের প্রয়োজনে যেখানেই খেলানো হোক, তার জন্য প্রস্তুত থাকি। সকালে জানতাম না খেলব। স্যার (হেড কোচ ইমন) আমাকে যখন বললেন খেলার কথা, তেমন কিছু মনে হয়নি। ব্যাটিংয়ে ভালো কিছু করতে না পারায় কিছুটা হতাশ ছিলাম। তখন চিন্তা করেছি আরেকটা পার্ট (বোলিং) বাকি আছে।’








