অনেক সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, চেষ্টা-তদবিরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে। আর তাতেই আনন্দের ঢল বইছে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে। সঙ্গে আনন্দে উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিও। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত থাকায় ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির ডিরেক্টর জাইলস ক্লার্ক।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট টিমের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর কেটে গেছে আট বছর। এরপর এক জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের পা পড়েনি পাকিস্তানে। চলতি বছর ঘরের মাঠে পিএসএলের ফাইনাল আয়োজন করতেও গলদঘর্ম হতে হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)।
অপেক্ষার দুয়ার খুলে অবশেষে ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে। বিশ্ব একাদশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজ দিয়ে হাহাকার ঘুচতে যাচ্ছে দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের। সোমবার লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন জাইলস ক্লার্ক, ‘এ এক দীর্ঘ পথচলা। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরায় আমি বেশ আনন্দিত।’
এর আগে ২০১১ সালে পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় আইসিসি। সেই ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন ক্লার্ক, ‘২০১১ সালেও আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেসময় এখানকার অবস্থা আমাদের বিশেষ অনুকূলে ছিল না। আসলে এটা কোন অজুহাত হতে পারে না। সেজন্য আমি দুঃখিত।’
তবে আইসিসি আনন্দিত থাকলেও নিজ দেশের সাবেকদের নিয়ে অস্বস্তিতে আছে পিসিবি। পাকিস্তানের জীবনদায়ী সেই সিরিজকে সামনে রেখে ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদের মত ১৮ জন সাবেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দেশটির বোর্ড। কিন্তু সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না ইমরান। পিসিবির সঙ্গে খুব একটা ভালো সম্পর্ক না থাকায় এই সিরিজ দেখতে আসছেন না পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক।
দেশে আবার ক্রিকেট ফেরায় খেলোয়াড়-সমর্থকদের মত রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে আম্পায়ার আলিম দারকেও। প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি।
আলিম দার বলেছেন, ‘সিরিজটির নিজস্ব তাৎপর্যের কারণে এটি কঠিন ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। এটি আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।’
১০০টির বেশি টেস্ট ও ৪১টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করা ও তিনবার আইসিসি বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জেতা আলিম দার ঘরের মাটিতে এবারই প্রথমবারের মতো আম্পায়ারের ভূমিকায় দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
‘আমি আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে অনেক মাইলস্টোন অর্জন করেছি। বিদেশের মাটিতে আমি অনেক টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু দেশের মাটিতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য স্মরণীয় স্মৃতি।’ রোমাঞ্চিত আলিম দারের উচ্ছ্বাস।
তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে সোমবার ভোরে পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখে ফ্যাফ ডু প্লেসিসের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব একাদশ। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও বিশ্ব একাদশ। বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলতে বাংলাদেশের তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল এখন সেখানেই।








