ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে তৃতীয় দফায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখোমুখি হলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু।
প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্ত করতে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করা হয়।
রাজধানীর সেগুন বাগিচায় কমিশন কার্যালয়ে সোমবার বেলা ২টার দিকে বাচ্চু হাজির হন।
এর আগে রোববার দুদক থেকে একটি নোটিশের মাধ্যমে তাকে সোমবার সকাল ৯টায় হাজির হতে বলা হলেও ৫ ঘন্টা দেরি করে তিনি দুপুর ২টায় আসেন।
এ সময় সাংবাদিকরা তাকে দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কোনো কিছু না বলেই দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের দিকে চলে যান।
দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর বাচ্চুকে তৃতীয় দফায় গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল। তখন ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে এক মাস সময় চেয়ে আবেদন জানালে দুদক তা প্রত্যাখ্যান করে ফের তাকে তলব করে।
বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে দুদকে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম হাজির হন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চু। একদিন বিরতি দিয়ে ৬ ডিসেম্বর প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।
২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয় বাচ্চুকে। এরপর ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ব্যাংকটির গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এরপর তদন্তে নামে দুদক। পরে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে দুদক।
দুই দিনে ৫৬টি মামলার মধ্যে ১৫টির বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঋণে অনিয়মের ঘটনায় তিনি নির্দোষ।
গ্রাহকদের তথ্য যাচাই বাছাই না করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।
প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত।







