পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদারের ২০ থেকে ২২টি বাড়ি আছে বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তারা বলছে, বেশ কয়েকটি অভিজাত বাড়িসহ পিকে হালদারের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানায়, শিবশঙ্কর হালদার নামে নিজের পরিচয় দিয়ে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারকারী প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার।
সংস্থাটি বলছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আধার কার্ডের মতো বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছেন পি কে হালদার। জালিয়াতির মাধ্যমে এসব পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে শিবশঙ্কর হালদার নামে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
ইডি নিশ্চিত করেছে যে এই বাংলাদেশী নাগরিকরা জালিয়াতিভাবে প্রাপ্ত পরিচয়ের ভিত্তিতে ভারতে টোফ্লোট কোম্পানিগুলি পরিচালনা করেছে এবং এমনকি পশ্চিমবঙ্গে সম্পত্তিও কিনেছে।
১৪ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ইডি
পি কে হালদারের আরও ১৪ দিন রিমান্ডে চেয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার পি কে হালদার তাকে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পি কে হালদারের রিমান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইডি আবেদন জানায়।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের তিনটি বিষয়ে অনুমতি চেয়েছে ইডি। সেগুলো হলো- চার্জশিট ছাড়া হেফাজতে রেখে দেওয়ার অনুমতি, দেশ ও দেশের বাইরে তদন্তের স্বার্থে যেখানে খুশি অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়ার অনুমতি এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি।
শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনায় অর্থসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযানে গ্রেপ্তার হন বহুল আলোচিত পি কে হালদারসহ ছয়জন।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, স্বপন মৈত্র ওরফে স্বপন মিস্ত্রী; উত্তম মৈত্র ওরফে উত্তম মিস্ত্রী; ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার; আমানা সুলতানা ওরফে শর্মি হালদার ও প্রাণেশ কুমার হালদার।
গত বছরের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। তখন তার সম্ভাব্য অবস্থান জানানো হয়েছিল কানাডা।
অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পিকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি ২২টি মামলা করেছে দুদক। অনুমোদিত ১৩টি হলে মামলা হবে ৩৫টি। মামলাগুলোতে ২ হাজার কোটি টাকার ওপর আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অদ্যাবধি এসব মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মামলায় আদালত ৬৯ জনকে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ ছাড়া ২০২১ সালের অক্টোবরে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে চার্জশিটও (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে।
আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।
সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।








