মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামনে তিনশর ওপরের কোন লক্ষ্যই ছুঁড়ে দেওয়া যাবে। মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত পুরো নিয়ন্ত্রণে রেখেই ব্যাট করছিলেন তামিম-মুশফিক। কিন্তু লাঞ্চের পর ফিরে পথ হারা বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে নেই টপের তামিম ও পুরো মিডলঅর্ডারই, এসময় ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে অজিরা।
এরপরও বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে বলা যাচ্ছে না। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। শের-ই-বাংলার পিচের আচরণ, চতুর্থ ইনিংসের ইতিহাস, চলতি ম্যাচে স্পিনারদের দাপট ও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের তোপ দাগানো খেলার ধরন মাথায় রাখলে এখনো সম্ভাবনার উঁকিটা মুশফিকদের দিকেই।
শের-ই-বাংলায় সর্বশেষ খেলা টেস্টেই পরাক্রমশালী ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দিয়ে নিজেদের বদলে যাওয়া সক্ষমতার জানান দিয়েছিল বাংলাদেশ। গত অক্টোবরে ইংলিশের সামনে দেয়া মুশফিকদের লক্ষ্যটা ছিল ২৭৩ রানের। মিরাজের ৬ আর সাকিবের ৪ উইকেট সেটাকেই যথার্থ প্রমাণ করেছিল। মাত্র ৪৫.৩ ওভার টিকতে পারে কুক-রুটদের ব্যাটিং লাইনআপ। তাদের ১৬৪ রানে গুঁটিয়ে দিয়ে ১০৮ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।
তারপর ভারতের মাটিতে পঞ্চম দিন পর্যন্ত প্রতিরোধ, শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্টে সমানে-সমান লড়াই ও দ্বিতীয় টেস্টে জয়, সেটি ছিল বাংলাদেশের শততম টেস্ট। সেই ধারাবাহিকতার কথা মাথায় রাখলে চলতি মিরপুর টেস্টেও এখনো টাইগারদের হাতেই ম্যাচ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২০১ রানে থামানো গেছে, চতুর্থ ইনিংসের পিচ তাদের জন্য অসম্ভব করে তোলা সম্ভব।
এই মাঠে ছোট লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচে লড়াই জমিয়ে তোলার ঘটনা অবশ্য আছে। ২০১৪ সালের জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্য টপকাতেই ৭ উইকেট খুইয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে সাউথ আফ্রিকার সামনে ২০৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৫ উইকেটে ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা।
পরে ২০১০ সালে অবশ্য ইংল্যান্ডের সামনে ২০৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে তুলে নেয়া গিয়েছিল মাত্র ১টি উইকেট। ৪৪ ওভারেই ম্যাচ জিতে যায় সফরকারীরা। ২০১১ সালে পাকিস্তান ১০৭ রানে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩ উইকেট হারিয়েই।
চতুর্থ ইনিংসে শের-ই-বাংলায় ব্যাট করা একটু কঠিনই। লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে যেয়ে তো একটু বেশিই কঠিন। আবার উল্টোটাও আছে। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া ৫২০ রানের লক্ষ্যে ছুটে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা অবশ্য হারতে হয় ১০৭ রানে। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুঁড়ে দেওয়া ৫০৮ রানের পেছনে ছুটে ২৭৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল টাইগাররা। আবার ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই ২৭৫ রানের পেছনে ছুটে ৭৭ রানে ম্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ, গুঁটিয়ে যায় ১৬৭ রানে।
সব হিসেব বলে মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন। হাতে সোয়া দুইদিন আছে, অস্ট্রেলিয়া চাইলে দেখেশুনে এগোতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ যেটা পারে, সেটা শুরু থেকেই হামলে পড়তে। পুরনো দিন যেমন নেই, পুরনো অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াও নেই; আছে কেবল নতুন বাংলাদেশ। সাফল্যের ঊর্ধ্বরেখা বাড়িয়ে চলা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। আর থাকছে শের-ই-বাংলার ১৬তম টেস্টে নিজেদের তৃতীয় জয়ের অপেক্ষা।
ছবি: সাকিব উল ইসলাম







