টাঙ্গাইলে পরিবহন শ্রমিক দ্বারা পাবলিক বাসে ধর্ষণ আর সেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্য আরেকটি পরিবহন শ্রমিকের স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার বিনিময় পরিবহন নামের একটি বাসে।
বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই নারীকে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে শোলাকুড়ি নামক স্থানে রাস্তায় ফেলে যায় ধর্ষকরা। আর এ ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে দিনভর চলে পরিবহন ফেডারেশনের নেতাদের দেনদরবার। দিনভর অপেক্ষার পর আর কোনো উপায় না পেয়ে পুলিশের দারস্থ হন ভিকটিমের পরিবার।
জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলার স্বামী পেশায় লেগুনা চালক। তার বাড়ী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায়, সে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করে লেগুনা চালায়।
ধর্ষিতার স্বামী জানান, বৃহস্পতিবার পাওনা টাকা আনতে আমার স্ত্রী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার দত্তবাড়ি গ্রামে খালার বাড়িতে যান। পরদিন শুক্রবার ভোরে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিনিময় পরিবহনের বাসে উঠার পরই নরপশুদের কুদৃষ্টি পরে তার উপর। বাসে আর কোনো যাত্রী না নিয়ে গেট বন্ধ করে দিয়ে মধুপুর এসে তারা বাস ঘুরিয়ে ময়মনসিংহের দিকে যেতে থাকে। মধুপুর বনের কোনো এক নির্জনস্থানে বাস থামিয়ে তারা আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।
তিনি আরো জানান, ধর্ষণের পর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে শোলাকুড়ি রাস্তায় ফেলে দেয়। আমার স্ত্রী কোনো রকমে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে অন্য একজনের ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। আমি গাজীপুর থেকে এসে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ভর্তি করি এবং মান-সম্মানের ভয়ে ফেডারেশনের নেতাদের জানাই।
বিষয়টি আপোষরফা করতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা ও চাপ দিতে থাকে পরিবহন নেতারা। আপোষরফা ও দোষীদের শাস্তির কথা বলে দিনভর তার সঙ্গে টালবানা করে বলেও জানান তিনি। পরে তিনি কোনো উপায় না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
টাঙ্গাইল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান লালজু বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবে অন্যভাবে জানতে পেরেছি যে, এ বিষয়ে আলোচনা করতে একটি দিন নির্ধারণ করেছে ফেডারেশনের কয়েকজন নেতা। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা পরিবহন সংস্থার জন্য লজ্জাজনক। ঘটনা সত্যি হলে আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করবো।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আব্দুস সোবহান জানান, ভিকটিম দুপুরের দিকে হাসপাতালে আসেন। এ ধরণের রোগীর জন্য এখানে মেডিকেল বোর্ড রয়েছে। বোর্ড ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. রেহানা বলেন, ভিকটিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।







