নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় গোরস্থানের কাছে একটি বাসায় জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরী সঙ্গে নিহত হওয়া অপর দুই জঙ্গির পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অপর দুই জঙ্গির নাম ইকবাল এবং মানিক।
এক মাস আগে ওষুধ ব্যবসায়ী পরিচয়ে নারায়নগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের কাছে ওই বাসাটি ভাড়া নেয় তামিমসহ জঙ্গিরা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক নুরুদ্দীন ও তার স্ত্রীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে হলি আর্টিজন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মোষ্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীসহ তিনজন।
শহরের বড় কবরস্থানের পাশে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াটের বিশেষ অভিযান চলে প্রায় এক ঘন্টা। ঘটনাস্থল থেকে একে-টুয়েন্টি টু রাইফেল, গ্রেনেড ও পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গোয়েন্দা তথ্যে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের পাশে ৩ তলা বাড়িটি রাত ৩টার দিকে ঘিরে ফেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
জঙ্গিরা ভেতরে আছে নিশ্চিত হওয়ার পর ডাকা হয় বিশেষ বাহিনী সোয়াটকে। ভোর ৬টার দিকে আত্মসমর্পণের জন্য বাড়ির বাইরে থেকে মাইকিং করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি দেখে জঙ্গিরা তথ্য প্রমাণ ও আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করছে বুঝতে পেরে ভেতরে ঢোকার প্রস্তুতি শুরু হয়।
বারবার আত্মসমর্পন করতে বলা হয় জঙ্গীদের। জবাবে বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেড হামলা ও গুলি চালালে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।
কিছুক্ষণ থেমে থেমে গোলাগুলির পর ভেতর থেকে জঙ্গীদের কোন সাড়া না পেয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভেতরে ঢোকে অপারেশন হিট ষ্ট্রং টুয়েনটি সেভেনে অংশ নেওয়া সোয়াট।
ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভেতরে ঢুকে ৩ জনের মরদেহ পায় পুলিশ। ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রধান এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিলো জঙ্গীদের জীবিত অবস্থায় আটক করা। সফল অভিযানের পর ঘটনাস্থলে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক।








