চার দশক আগে বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন এখনো বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল কৌশল।
সেই প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিলে বঙ্গবন্ধুর লেখা মুখবন্ধ আজো
সরকারগুলোর উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে প্রধান পাথেয়।
যদিও দশকের পর দশক তাকে
অস্বীকারই করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর লেখা সেই অমর মুখবন্ধটি স্থান পেয়েছে
এবারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিলে।
৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিলের মুখবন্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর। গোলমেলে মনে হতেই পারে। একটু অন্যরকমতো বটেই। ৭৫ সালে বিশ্বাসঘাতকের হাতে নৃশংসভাবে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের জনক, আর তার ৪ দশক পর ২০১৫ সালে প্রকাশিত পরিকল্পনা দলিলের মুখবন্ধে তার নাম। হিসাব মেলানো তো কঠিনই বটে।
দেশজ চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশীয় মানুষের দ্বারা দেশের মানুষের জীবনামানের উন্নয়ন এই দর্শনের জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তার অধীনেই রেখেছিলেন। পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদদের জড়ো করে তার নেতৃত্বেই রচিত হয় ৭৩-৭৮ সাল মেয়াদী পরিকল্পনা দলিল, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। আর সেই দলিলের মুখবন্ধ ৪ দশক পরে আবারো জায়গা পেয়েছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, একটি পরিকল্পনা যতই সুন্দরভাবে তৈরি করা হোক কিন্তু এটা অর্থবহ হবে এবং পরিপূর্ণতা পাবে বাস্তবায়নের মাঝ দিয়েই। আর বাস্তবায়নটি তখনি ভালো ও যথাযথ হবে যদি এই পরিকল্পনায় দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা দলিলে বঙ্গবন্ধুর এই উন্নয়ন দর্শন সন্নিবেশিত করা হবে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটি পঞ্চমবার্ষিকীর হাত ধরেই এসেছে। যেটি বঙ্গবন্ধু প্রনয়ণ করেছিলেন। এবং সেখানে এমন কিছু কথা অছে যা আমি মনে করি জাতি ও আগামী প্রজন্মকে জানানো দরকার। এখন থেকে যত পরিকল্পনা তৈরি হবে সকল পরিকল্পনায় এটি এভাবেই চলে আসবে।
স্বাধীন বাংলাদেশে সব উন্নয়ন পরিকল্পনা পাঁচশালা পরিকল্পনার আওতায় নেয়ার রেওয়াজের ছেদ ঘটে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে। সেসময় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর প্রেসক্রিপশনে দারিদ্র্য বিমোচনের শর্টকার্ট দলিল পিআরএসপি গৃহীত হয়।
অবশ্য সেই পিআরএসপি নিয়ে সেসময় সরকারের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা কম হয়নি। ২০০৬ সালে দাতাদের এক অনুষ্ঠানেই জোট সরকারের মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান পিআরএসপি দলিলকে অকার্যকর উন্নয়ন দলিল আখ্যা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন দলিলটি।







