এবার ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন পরাজিত হয়েছেন। পরাজিত প্রার্থীরা হলেন- মেরিনা আহমেদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া, আখলাখুল ইসলাম, মিনা রহমান, আশুক আহমেদ, সাদেক চৌধুরী এবং মোহাম্মদ সুলতান।
নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে জয়ী হয়েছেন রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক এবং ইমরান হোসেইন। পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে লেবার পার্টির হয়ে ৩ জন, লিবারেল ডেমোক্রেট থেকে ৩ জন এবং কনজারভেটিভ থেকে ১ জন প্রার্থী।
যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের নির্বাচনী অবস্থা নিম্নরুপ:
মেরিনা আহমেদ
তিনি লন্ডনের বেকেনহাম আসনে লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি ১৮ হাজার চারশ’ ৭১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন কনজারভেটিভ দলের বব স্টুয়ার্টের কাছে।
মেরিনার দেশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। দুই সন্তানের মা তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরেই লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি।
ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া
ব্রিটেনের নর্থহ্যামটন শহরে বেড়ে ওঠা ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া লন্ডনের ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ড আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।নির্বাচনে তিনি কনজারভেটিভ দলের গ্র্যান্ট শ্যাপস এর কাছে ১২ হাজার একশ’ ৫৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্ম নেয়া ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া ইউকে-বাংলাদেশ ক্যাটালিস্ট অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউকেবিসিসিআই)’র একজন পরিচালক।
আখলাখুল ইসলাম
লুটন শহরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী আখলাকুল ইসলাম লুটনের রিগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে লেবার দলের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি।ভোট পেয়েছেন মাত্র ছয় হাজার পাঁচশ’ ৭৮ টি। তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কনজারভেটিব দলের ক্রিসপিন ব্লান্ট এবং ইউকেআইপি দলের জোসেফ ফক্স।
তরুণ এই রাজনীতিবিদ ১৯৬০ সালে পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে যান। তিনি ব্রিটিশ রেডক্রস ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে তার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে।
মিনা রহমান
কনজারভেটিভ দল থেকে লন্ডনের বার্কিং আসন থেকে নির্বাচনে লড়েন মিনা রহমান।তিনি ছিলেন দলটির একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী। সাধারণ নির্বাচনে তেমন সুবিধা করতে পারেন নি মিনাও। ভোট পান মাত্র সাত হাজার ১৯টি।তাকে লেবার দলের মার্গারেট হজ ১৭ হাজার আটশ’ সাত ভোটে পরাজিত করে।
বর্তমানে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি হাউজিং কোম্পানির ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন। দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জননী মিনা রহমান বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
আশুক আহমেদ
লুটন সাউথ আসনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হয়েছেন আশুক আহমেদ। নির্বাচনে লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে অংশ নিয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন এই প্রার্থী।তিনি লেবার, কনজারভেটিভ এবং ইউকেআইপির প্রার্থীদের তুলনায় কম ভোট পেয়েছেন।
আশুক ২০০৯ সালে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কর্তৃক সম্মানজনক ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য বৃটিশ অ্যাম্পায়ার’ (এমবিই) খেতাবে ভূষিত হন তিনি। জন্ম সিলেটের বিয়ানীবাজারে।
সাদিক চৌধুরী
তিনি নর্থহ্যাম্পটন সাউথ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেট দলের হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এমপি পদে লড়াইয়ে অংশ নেন।তবে নির্বাচনে তেমন সুবিধা করতে পারেন নি।ভোট পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ছয়শ’ ৭৩টি।
এর আগে ২০০৭ সালে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল নির্বাচনে প্রথম কোন বাংলাদেশী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে সিলেটে জন্ম নেয়া প্রিন্স সাদিক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। প্রিন্স সাদিক চৌধুরীর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।
মোহাম্মদ সুলতান
স্থানীয় বেনগোর সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সুলতান। পেশায় তিনি একজন সফল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী।এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ওয়েলসের আরফন আসন থেকে লিবারেল ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র সাতশ’১৮টি।







