বলিউডের স্মরণকালে মুক্তির আগেই সবচেয়ে বিতর্কিত ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ‘পদ্মাবতী’। ইতিহাস আশ্রয়ী এই সিনেমা নিয়ে আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ‘পদ্মাবতী’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পদ্মাবত’। বহুদিন ছবিটির মুক্তি ঝুলে থাকার পর সম্প্রতি ছবিটি মুক্তিতে কোনো বাধা নেই জানিয়ে আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু আদালতের এমন নির্দেশনার পরও নতুন করে ছবিটির মুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে হট্টগোল। শোনা যাচ্ছে, ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পেলে গণআত্মহত্যা করবে রাজপুত নারীরা।
সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পেতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আর এমন সিদ্ধান্তের পর উপায়ান্তর না দেখে এবার রাজপুত কর্নি সেনার অধীনস্থ সংগঠনটি ক্ষত্রিয় মঞ্চের তরফে গণ-আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে। আগামি ২৪ জানুয়ারি গণ-আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
ছবির নির্মাতা সঞ্জয়লীলা বানসালিকে বর্তমানের আলাউদ্দিন খিলজি বলে কটাক্ষ করে ক্ষত্রিয় মঞ্চের নারীরা ভারতীয় গণমাধ্যমে বলেন,গণ-আত্মহত্যায় পারে রানী পদ্মাবতীর সম্মান রক্ষা করতে। কেনোনা, প্রথম থেকেই আমরা ছবিটির মুক্তির বিরোধিতা করে আসছি, তারপরেও সরকার আমাদের দাবী না মেনে ‘পদ্মাবত’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নিল। বানসালির পক্ষ নিল। আর এ কারণেই আমরা গণ-আত্মহত্যা করে হলেও প্রতিবাদ করে যাবো।
তাদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতেই ছবির নাম ‘পদ্মাবতী’ থেকে ‘পদ্মাবত’ করা হয়েছে। তারপরেও কেনো তারা ছবিটি নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি করছেন?-এমন প্রশ্নে তাদের জবাব,ছবির নাম পরিবর্তন করলে হবে না। ছবিতে যে তথ্যগুলি বিকৃত করা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে আমরা মেনে নেব? আমরা রানী পদ্মাবতীকে সম্মান করি। তার সম্মানের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে দেব।
পদ্মাবতীর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ঐতিহাসিক এক ঘটনার ছায়া অবলম্বনে। যার প্রধান চরিত্র রাজস্থানে অবস্থিত চিতোরের রাণী পদ্মিনী। আর তার সাথে দিল্লির মুসলিম সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির প্রেম নিয়েই বানসালীর এ সিনেমা। কিন্তু সেখানেই এসেছে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ। ঐতিহাসিক এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রনবীর সিং, দীপিকা পাডুকোন এবং শহীদ কাপুর।








