জাতির জনক বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে ছবি বানাচ্ছেন চিত্রপরিচালক অনন্য মামুন। কয়েকটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’ টার্গেট করে ‘রেডিও’ নামে এই ছবিটি বানাচ্ছেন ‘নবাব এলএল.বি’-খ্যাত এ পরিচালক। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পদ্মানদীর পাড়ে দুর্গম এলাকায় ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই ছবির শুটিং।
রবিবার শুটিং স্পটে বসে কথা হয় অনন্য মামুনের সঙ্গে। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ৭ মার্চ ‘রেডিও’র প্রিমিয়ার হবে। শুধুমাত্র কয়েকটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’ টার্গেট করে এই ছবিটি বানাচ্ছি। সিনেমা হল বা ওটিটিতে মুক্তি দেব পরে।
আগেই কেন ভেস্টিভ্যালে মুক্তি দেবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, এই গল্পটা আমাদের কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু বিদেশীরা জানেন, ৭ মার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ ছিল। কিন্তু ভাষণটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারাদেশে প্রভাব ফেলে এটা অনেকেই জানেন না। জানাতে চাই, জাতি হিসেবে আমরা প্রতিকূলতার মধ্যেই কতটা লড়াই সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন হয়েছিল।

‘রেডিও’-তে শুটিং করছেন রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুৎফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায়সহ অনেকে। চতুর্থ দিনের শুটিংয়ে পদ্মার পাড়ে ছিলেন সবাই। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ওই অঞ্চলে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। নদী পার হয়ে সেকেলে পদ্ধতিতে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যেতে হয় লোকালয়ে। সেখানে রোদ এবং থেমে থেমে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুটিং করছেন সবাই।
অনন্য মামুন বলেন, গল্পটা অনেক লোকেশনে শুটিং করার মতো নয়। পানি বেষ্টিত গ্রামের গল্প। সম্পূর্ণ ছবি শুটিং এই এলাকায় হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুটিং করছি। ৩ মার্চ পর্যন্ত শুটিং করবো। শুটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে এডিটিংও চলছে। ৭ মার্চ প্রিমিয়ার হবে।
পরিচালক মামুন জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি এই রেডিও’র গল্পটা নিয়ে কাজ করছিলেন। বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এমন এক ক্যানভাস হাজারও গল্প নিয়ে ছবি বানালেও কনসেপ্ট শেষ হবে না। এই গল্পে মুক্তিযুদ্ধ থাকবে কিন্তু অন্য সাবজেক্ট তুলে ধরবো।
‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন স্টাডি শুরু করি, বুঝেছি যুদ্ধের বিজয়ের নিশানটা ৭ মার্চে জাতির পিতার ভাষণ থেকেই শুরু হয়। এই ভাষণের পর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ হয়তো স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে। তখন এই ভাষণ সারাদেশের মানুষ শুনতে পেয়েছিলো রেডিও’র মাধ্যমে। কারণ রেডিও ছাড়া দেশে এই কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রচার মাধ্যম ছিল না।

পরিচালকের কথা, যুদ্ধের আগে ‘রেডিও’ যুদ্ধ সংগঠিত করতে যে ভূমিকা রেখেছিল তাই উপজীব্য করে ‘রেডিও’ নির্মিত হচ্ছে।
রিয়াজ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, একজন প্রতিবাদী মাস্টারের চরিত্র করছি। যে মানুষের অন্তরের আলো জ্বালেন। এই আলোটা সে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর ভাষণে থেকে পায় রেডিও’র মাধ্যমে। একটা সময় সে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্য গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, শিল্পীদের চাওয়ার শেষ নেই। দর্শকদেরও প্রত্যাশা অনেক। তবে পিরিওডিক্যাল ছবি করতে গেলে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে এই কনসেপ্ট নিয়ে ছবি করার উদ্যোগটা মহান। এই কারণে সর্বোচ্চ দিয়ে কাজটি ভালো করার চেষ্টা করছি।
ছবি: নাহিয়ান ইমন








