সৌম্য সরকার ওয়ানডে দলে নিয়মিতই। তামিম ইকবালের সঙ্গী হয়ে খেলেছেন বেশকিছু ঝলমলে ইনিংস। মারকুটে মেজাজি হওয়ায় তার মাঝে তামিমের ছায়াই দেখেছিল অনেকে। কিন্তু কঠিন পথটাও সামনে চলে এসেছে। সৌম্যর ব্যাটে বেশ কিছুদিন নেই সেই জৌলুস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চার ম্যাচে এসেছে মাত্র ৩৪ রান। দীর্ঘ রান খরা কাটিয়ে স্বরূপে ফেরার আভাস দিয়েই আবারো শঙ্কা, তামিমের সঙ্গী হয়ে টিকে থাকতে পারবেন তো সৌম্য? তবে ‘পথ খুঁজে ফেরা’ এই বাঁহাতি দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার স্বপ্নই বুনছেন।
সৌম্য যেতে চান অনেক দূর। সোমবার মিরপুরে স্বপ্নের সেই পরিধীর কথাই জানালেন, ‘তামিম ভাইয়ের সঙ্গে ওপেনিং জুটি দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। দুজন ওপেনিংয়ে নামার পর যখন টিভি স্ক্রিনে দেখায় তার ১৬০-১৭০ ম্যাচ, আর আমার ৩০; তখন মন বলে একদিন আমিও এত ম্যাচ খেলব।’
গত ১০ বছরে ওপেনিংয়ে ১৩ জন সঙ্গী পেয়েছেন তামিম। তাদের কেউই জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। ওপেনিংয়ে থিতু হওয়ার একমাত্র উদাহরণ কেবল তামিমই। যেকোনো কন্ডিশনে তার ব্যাট যেন তলোয়ার! ধারাবাহিক সেই তামিমকে দেখে কতটা শিখছেন সৌম্য?
‘অবশ্যই তার কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। তিনি যখন স্ট্রাইকে থাকেন আর আমি নন স্ট্রাইকে, ভাবি, আমি স্ট্রাইকে থাকলে কী করতাম।’
শুরুর সেই মেজাজীভাবটা এখন নেই তামিমের মধ্যে। নিজেকে বদলেছেন অনেকটাই। বল বুঝে ব্যাট চালান। সময় বুঝে হন আগ্রাসী। দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টায় ইনিংস লম্বা করতে সচেষ্ট থাকেন। তামিমের এই বদলে যাওয়া ধরতে পারেন সৌম্যও। চেষ্টা করেন শেখার।
ওপেনিং সঙ্গী নিয়ে বললেন, ‘এখন ওনার (তামিম) খেলা আগের চাইতে অনেক বদলেছে। এখন তিনি অনেক পরিপক্ব। ম্যাচের অবস্থা দ্রুতই বুঝে ফেলে। যখনই সুযোগ পাই মাঠে বা মাঠের বাইরে, তার থেকে কিছু নেয়ার চেষ্টা করি। তাছাড়া তার আগের খেলাও আমি দেখি। শিখে নিচ্ছি অনেককিছুই, হয়তো বোঝা যাচ্ছে না। যখন সুযোগ পাই, তার সাথে কথা বলেও কিছু নেয়ার চেষ্টা করি।’
ঠিক কী কারণে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না সেটি নিজেও জানেন না সৌম্য। উপলব্ধি করছেন কোথাও সমস্যা হচ্ছে। শিগগিরই ‘সমস্যা’টা কাটিয়ে রানে ফেরার চ্যালেঞ্জও নিচ্ছেন সৌম্য, ‘আমি নিজেই উপলব্ধি করছি। আমার সমস্যা আমাকেই বের করতে হবে। সবসময় যদি একই রকম আউট হতাম, তাহলে বুঝতাম আমার একই রকম সমস্যা। কিন্তু আউটগুলো এক রকম নয়। সমস্যাটা ভিন্ন। আমি চেষ্টা করি সমস্যাগুলো সমাধান করার। আমাকে রান করতে হবে। এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
গেল আড়াই বছরে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দিন বদলের শুরু যেখান থেকে, সেখান থেকেই দলে আছেন সৌম্য সরকার। এই বাঁহাতি ওপেনারের অভিষেক হয় ২০১৪ সালের শেষদিকে, ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজে। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অতিথি দলকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ে টাইগাররা। পরে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে হেঁটে র্যাঙ্কিংয়ের সাতে উঠেছে বাংলাদেশ।
ধীরে ধীরে টেস্টেও আসতে শুরু করেছে সাফল্য। টেস্ট দলেরও একজন গর্বিত সদস্য সৌম্য। মুখিয়ে আছেন আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমাদের এখানে তারা (অস্ট্রেলিয়া) আসবে। তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি। আশা করি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার প্রথম টেস্ট সিরিজ হবে। এটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আমার ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে যেন আমরা দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম কোনও টেস্টে জিততে পারি, সেই চেষ্টাই করব।’







