ফেসবুক হলো মানুষে মানুষে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি একটা মাধ্যম। এই সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শুধু গল্প-আড্ডা আর তথ্য আদান-প্রদানই হয় না, হয় কেনাবেচাও।
ফেসবুকের নিজস্ব জরিপেই দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় ৫ কোটি ব্যবহারকারী পণ্য বা সেবা কেনাবেচা করে এমন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে ঢুঁ মারেন।
এবার তাই ফেসবুক তার অ্যাপে নতুন একটা ট্যাবই জুড়ে দিলো সেই বেচাকেনা সহজ করার জন্য, যার নাম ‘মার্কেটপ্লেস’।
সোমবার ট্যাবটি শুধু ফেসবুক মোবাইল অ্যাপের জন্য যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে। তবে জনপ্রিয়তা পেলে পরে বিশ্বব্যাপী ওয়েব ব্রাউজারেও এটি চালু করা হবে।
ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ব্যবহারকারীদের সুযোগ করে দেবে এলাকা ও পণ্যভিত্তিক সার্চের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার। আবার বিক্রেতাকেও ক্যাটেগরি ও পছন্দ অনুযায়ী নিজের মতো করে পণ্য সাজানোর ব্যবস্থা করে দেবে।
মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে ফেসবুকের মেসেঞ্জার অ্যাপটিকেও ইন্টিগ্রেট বা একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা সহজেই চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলে দরদাম করতে পারবেন বা সরাসরি দেখা করার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন।
মার্কেটপ্লেসের কাজ অনেকটা ‘ক্রেইগসলিস্ট’ ওয়েবসাইটের মতো হলেও ক্রেইগসলিস্টের মতো বিক্রেতা আর ক্রেতার পরিচয় মার্কেটপ্লেসে গোপন থাকে না। কারণ আপনি চাইলে সহজেই বিক্রেতা বা ক্রেতার ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে তার পরিচয়টা জেনে নিতে পারছেন।
তবে সুবিধার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত কিছু অসুবিধা রয়ে গেছে মার্কেটপ্লেস ট্যাবটিতে। এখানে বিক্রেতার মানের ওপর রেটিং সিস্টেম থাকলেও ক্রেতার জন্য কোনো রেটিং সিস্টেম নেই। যার ফলে এর মধ্যেই কেনাবেচায় প্রতারণা বা দুর্ব্যবহার পাওয়ার সুযোগ রয়ে যায়।
তাছাড়া এতে সরাসরি অনলাইন চেকআউট বা পেমেন্টের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একে কিছুটা বিরক্তিকর বললেও অন্তত শিপিং বা পণ্য সরবরাহে জালিয়াতির সুযোগ নেই বলে মনে করছেন অনেকে। কেননা এক্ষেত্রে হাতে হাতে পণ্য ও অর্থ লেনদেন হবে।
তবে সমস্যা আর অভাবগুলো কাটিয়ে উঠে খুব দ্রুতই সবার কাছে মার্কেটপ্লেস পৌঁছে যেতে পারবে বলে আশা করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওতে দেখুন মার্কেটপ্লেসের এক ঝলক:








